যেখানে ছিল ল্যান্ডমাইন, আফগানিস্তানে সেখানেই মিলল সোনা! খননের জন্য নিযুক্ত প্রায় ১ লক্ষ মানুষ

Published on:

Published on:

Gold Mine discovered in Badakhshan of Afghanistan.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) বাদাসখানে বর্তমানে দ্রুত গতিতে স্বর্ণ ও মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের কাজ চলছে। একসময় তালিবানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলে এখন সোনা, ল্যাপিস লাজুলি-সহ নানা মূল্যবান পাথরের উৎপাদন বাড়ছে। তালেবান প্রশাসনের দাবি, এই খনি শিল্পে প্রায় এক লক্ষ মানুষ কাজ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে খনন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মানা নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠছে।

আফগানিস্তানের (Afghanistan) বাদাখশানে মিলল স্বর্ণ খনি:

এই খনিগুলিকে ঘিরেই তালিবানের অন্দরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষত কান্দাহার-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব এবং বাদাখশানের স্থানীয় কমান্ডারদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নিচ্ছে। খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এতটাই বেড়েছে যে গত কয়েক মাসে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড় রদবদল হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া, গ্রেপ্তার এবং বদলির পাশাপাশি কান্দাহার থেকে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের এনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: তীব্র খাদ্য সঙ্কটের সম্মুখীন বাংলাদেশ-পাকিস্তান! ভারতের আরও এক পড়শি দেশেও শোচনীয় অবস্থা

এছাড়া নিরাপত্তার নামে বাদাখশানে প্রায় এক হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও তালেবান সরকার দাবি করছে, এই বাহিনী খনি এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য, স্থানীয়দের মতে এর আসল উদ্দেশ্য হল খনিগুলোর উপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। অভিযোগ, স্থানীয় কমান্ডাররা দীর্ঘদিন ধরে এই খনি থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করছিলেন এবং নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছিলেন, যা শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে তালিবান নেতৃত্ব একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খনি বিভাগের প্রধান শফিকুল্লাহ হাফিজীকে অপসারণ করে অন্য প্রদেশের আব্দুল মতিন রহিমজাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দরওয়াজ অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা জুমা খান ফতেহকে পদচ্যুত করে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আর্গো জেলার গভর্নর আব্দুল খাবির নিজামীকে সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল রহমান আম্মারকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Gold Mine discovered in Badakhshan of Afghanistan.

আরও পড়ুন: ঠিক যেন সিনেমা! মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরের পার্টি অফিসের কাছে পৌঁছলেন অজয় পাল শর্মা, তারপরে যা হল…

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং তালিবানের অভ্যন্তরে অর্থ ও ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিফলন। কান্দাহারের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খনিজ সম্পদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে স্থানীয় নেতারা নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া। ফলে আফগানিস্তানের (Afghanistan) বাদাখশান এখন শুধু খনির জন্য নয়, তালেবানের অভ্যন্তরীণ শক্তির লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।