বাংলা হান্ট ডেস্ক : দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election) আগে হঠাৎ করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফা ভোটের আগের দিন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই দাগিদের তালিকা হাতে নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে (IPS Ajay Paul Sharma)।
আইপিএস অফিসার অজয় পাল (IPS Ajay Pal Sharma) বনাম জাহাঙ্গীর:
আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এলাকা টহল দিচ্ছিলেন। এমনকি আগের দিন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছিলেন এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়, যা মঙ্গলবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসে। সকালে ফলতার খানপাড়া এলাকায় দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযানে নামে।
প্রসঙ্গত, ওই এলাকায় যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। তবে ওই এলাকা থেকে বেরোনোর সময় আইপিএসের কনভয় বিক্ষোভের মুখে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অজয় পাল শর্মা যে এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন, তার কিছু দূরেই জাহাঙ্গীর খানের দলীয় কার্যালয়। এমনকি কার্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা বেরিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। যদিও পুলিশ পর্যবেক্ষকের গাড়ি এগিয়ে যায়, সিআরপিএফ-এর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
প্রসঙ্গত, সোমবার জাহাঙ্গীর খানের খোঁজে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে অজয় শর্মা কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বাড়ির লোককে বলে দেবেন, সবাইকে যেভাবে ধমক দিচ্ছে, তাতে পরে যেন পস্তাতে না হয়।” এই মন্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার জাহাঙ্গীর খান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “আমরা পুষ্পা রাজ। ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব না। কিন্তু দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। ওঁর চমকানো কতটা বাড়তে থাকে দেখা যাক। তারপর আমরা দেখছি। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা যখন এক হয়ে ঝাঁটাপেটা করবে তখন বুঝতে পারবে।”

আরও পড়ুন : ভোটের আবহে বঙ্গে উদ্ধার ৪৮ লক্ষ লিটার মদ! বাজেয়াপ্ত মাদক-ড্রাগসও, কী জানাল কমিশন?
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফলতার পরিস্থিতি ক্রমেই স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও রাজনৈতিক বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা বজায় রয়েছে। ভোটের দিন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।












