বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি হাসপাতালে (Government Hospital) চিকিৎসা করাতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝক্কি এবার কিছুটা কমতে পারে। রোগীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সরকারি হাসপাতালেই সন্ধ্যার সময় ডাক্তার দেখানোর সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। প্রস্তাবিত এই পরিষেবা চালু হলে সকালে ওপিডির পাশাপাশি দিনের শেষভাগেও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ মিলবে।
সরকারি হাসপাতালে (Government Hospital) ডাক্তার দেখাতে পারবেন রাতেও
বর্তমানে সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে গেলে সকাল থেকেই রোগীদের ভিড় জমে যায়। অনেক সময় সেই অপেক্ষা দুপুর পেরিয়ে বিকেল পর্যন্ত গড়ায়। ফলে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলে বহু রোগী শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ক্লিনিকের দ্বারস্থ হন। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই রোগীদেরই সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছে স্বাস্থ্য দফতর।
তবে সন্ধ্যার পরিষেবায় বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে না। নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে রোগীকে। কিন্তু বেসরকারি ক্লিনিকে একই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার তুলনায় ফি অনেকটাই কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম খরচে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখানোর বিকল্প তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সন্ধ্যার ক্লিনিকে রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার ৬০ শতাংশ চিকিৎসকদের দেওয়া হতে পারে। নার্সদের জন্য রাখা হতে পারে ২০ শতাংশ এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য ১০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ রাজ্য সরকারের রাজস্ব হিসেবে জমা পড়তে পারে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষকে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার আওতায় আরও সহজে পরিষেবা দেওয়া। অনেকেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপর আস্থা রাখেন, কিন্তু ভিড়ের কারণে সেখানে যেতে চান না। সন্ধ্যার সময়ে তুলনামূলক সুবিধাজনকভাবে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের সেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও রাজ্যজুড়ে নতুন করে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য দফতর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। পরিষেবাটি চালু করতে জাতীয় নীতিগত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করতে হবে। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন :‘পুলিশ ব্যবস্থা নেবে’, রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে মমতার নিরাপত্তায় শুভেন্দুর আশ্বাস
তবে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সন্ধ্যার ওপিডি একেবারে নতুন নয়। ইতিমধ্যেই জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলিতে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। এবার সেই মডেলকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা সফল হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার সময়ের পরিসর বাড়বে, পাশাপাশি সকালের চাপও কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।













