তৃণমূল আমলে হওয়া সব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য কমিশন! বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যের

Published on:

Published on:

Government of West Bengal form a commission to investigate institutional corruption during TMC rule
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পরেই দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। এবার তৃণমূল আমলে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হল। নবান্নের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একথা জানানো হয়েছে।

দুর্নীতি নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের | (Government of West Bengal)

গত ১০ জুলাই নবান্নের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস অবধি রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজ নিয়ে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তদন্ত হবে। এর জন্য গঠিত কমিশনের মাথায় থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

আরও পড়ুনঃ রান্নার খরচ থেকে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি! মিড ডে মিলে ঢালাও ঘোষণা রাজ্য সরকারের

স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, ১০০ দিনের কাজে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি, মিড ডে মিল দুর্নীতি, আমফান ত্রাণে দুর্নীতি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি হাসপাতাল-মেডিক্যাল শিক্ষায় দুর্নীতি, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এই কমিশন তদন্ত করবে।

রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস অবধি যেসব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি দুর্নীতির মাধ্য়মে নয়ছয় করা টাকা কীভাবে উদ্ধার করা যায় সেই বিষয়েও প্রস্তাব দিতে পারে এই কমিশন। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা অথবা বেআইনি গ্রেফতার হয়েছে কিনা, অবৈধ নির্মাণে সরকারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে পারবে তাঁরা।

রাজ্য জানিয়েছে, সিভিল কোর্টের মতোই ক্ষমতা থাকবে এই কমিশনের। দরকার পড়লে যে কোনও ব্যক্তিকে তলব করে তাঁর বয়ান নিতে পারবে। যে কোনও জায়গায় বসে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। কমিশন যদি মনে করে দুর্নীতি হয়েছে, তাহলে পুলিশকে এফআইআর করার সুপারিশও করতে পারবে।

তবে যেসব দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি করছে, সেগুলি নিয়ে রাজ্যের তৈরি করা এই কমিশন তদন্ত করতে পারবে না। সময় সময়ে রাজ্যকে তদন্তের রিপোর্ট দিতে হবে।

Government of West Bengal CM Suvendu Adhikari

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বসু ছাড়া এই কমিশনে আর কারা কারা থাকবেন সেটাও জানা গিয়েছে। তদন্ত বিভাগের মাথায় প্রবীণ আইপিএস অফিসার, প্রশাসনিক বিভাগের মাথায় একজন আইএএস অথবা ডব্লিউবিসিএস অফিসার থাকবেন। এছাড়া প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কমিশনকে সাহায্য করবেন পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিসের একজন অফিসার। যদি দরকার পড়ে, রাজ্যের অনুমোদন নিয়ে কমিশন অন্য সদস্যও নিয়োগ করতে পারবে।

তৃণমূল আমলে বিভিন্ন সময়ে নানা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার ওই আমলে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি নিয়ে তদন্তের জন্য কমিশন তৈরি করল বিজেপি সরকার। এই পদক্ষেপকে তাঁদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।