বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক সময় নানা বিপদের সম্মুখীন হন মৎসজীবীরা (Fisherman)। এবার তাঁদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় একগুচ্ছ পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। সম্প্রতি নামখানার ফ্রেজারগঞ্জে মৎসজীবীদের সঙ্গে প্রশাসনিক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা হয়।
মৎসজীবীদের নিয়ে বড় পরিকল্পনা রাজ্যের | (Government of West Bengal)
সামুদ্রিক মৎসজীবীদের বিমা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে মাছ সংরক্ষণ ও বিপণনের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্রেজারগঞ্জে আয়োজিত সভায় বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানান সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।
আরও পড়ুনঃ ঋতব্রতদের বিধায়কপদ খারিজ করা হোক! সুপ্রিম কোর্টে স্পিকারের বিরুদ্ধে মামলা শোভনদেবের
মৎসজীবীদের সরকারি প্রকল্পের অধীন আনতে উদ্যোগী সরকার। তাঁদের ন্যাশনাল ফিশারিজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাম তোলায় জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নানা সরকারি সুবিধা, ঋণ, ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ আছে। পিএম মৎস কিষাণ সমৃদ্ধি সহ যোজনার অধীন মৎসক্ষেত্রের ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।
এছাড়া মৎসজীবীদের জন্য দুর্ঘটনাজনিত বিমার সুবিধা আছে। পিএম মৎস সম্পদ যোজনার অধীন দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ স্থায়ী অক্ষমতা বা আংশিক স্থায়ী অক্ষমতায় বিমার সুযোগ আছে। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নিয়ম পূরণ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
এছাড়া মাছ ধরতে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য মৎসচাষি ও মৎসজীবীরা কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের জন্য আবেদন জানাতে পারেন। সেই সঙ্গেই মাছের সংরক্ষণ থেকে শুরু করে পরিবহণ, বাজারজাতকরণ এবং মাছ নামানোর কেন্দ্র ও ফিশিং হারবারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও সরকারি প্রকল্পে সাহায্যের ব্যবস্থা আছে।

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎসজীবীদের কাছে দুর্যোগের আগাম সংকেত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও বড় পরিকল্পনা করা হয়েছে। গগন ও নাভিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছনোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌকায় বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে তার মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে সম্ভাব্য বিপদের সংকেত মৎসজীবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রলারের অবস্থান নিশ্চিত করতে ট্রান্সপন্ডার বসানোর কথাও বলা হচ্ছে।
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক সময় আকস্মিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন মৎসজীবীরা। তাতে প্রাণও হারান অনেকে। এবার তাঁদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় বড় পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার। এতে মৎসজীবীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবাররাও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।














