বাংলা হান্ট ডেস্ক : খুঁটি পুজোর মাধ্যমে ক্লাবে ক্লাবে শারদোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও দুর্গাপুজোর অনুদান (Durga Puja Grants) নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি কলকাতার পুজো কমিটিগুলির। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম দুর্গাপুজো। তাই আগের বছরের মতো সব পুজোকে একইভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
রাজ্য সরকারের তরফে কারা পাবে দুর্গাপুজোর অনুদান (Durga Puja Grants)?
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক পুজো কমিটিকে সরকারি অর্থ দেওয়ার নীতি এবার অনুসরণ করা হবে না। নবান্নের অন্দরের খবর, ছোট বাজেটের পুজোগুলিকে এবার অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিক আলোচনায় ১০ লক্ষ টাকার কম খরচে যে পুজোগুলি হয়, তাদের আর্থিক সাহায্যের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই জানা যাচ্ছে।
করোনা পরিস্থিতির সময় থেকে রাজ্যের পুজো অনুদান দেওয়ার বর্তমান কাঠামো তৈরি হয়েছিল। ২০২০ সালে লকডাউনের কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়া পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর প্রতি বছর অর্থের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটির জন্য অনুদান দাঁড়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে সেই সর্বজনীন ব্যবস্থা এবার বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর দুই প্রতিনিধি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বালিগঞ্জ কালচারালের অঞ্জন উকিল এবং বেহালা নূতন দলের সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দেন।
পুজোর জন্য বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ছাড়, রাস্তা ও গলির পুজোর ব্যবস্থা, হোর্ডিং-ব্যানারে কর ছাড় এবং সরকারি অনুদান-সহ একাধিক দাবি নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় বেশ কয়েকটি কমিটি এখনও নিজেদের বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি। আর্থিক চাপ সামলাতে কোথাও থিম বদলেছে, কোথাও আবার শিল্পী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেহালা সাহাপুর সাংগঠনী ক্লাবের সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা একেবারেই ছোট পুজো করি। আমাদের পুজোর বাজার ১০ লাখ কেন পাঁচ লাখও নয়। সরকারি অনুদান পেলে পুজোর কলেবর আরও ভাল হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।”

আরও পড়ুন :মাসে ১০ হাজার টাকা, সরকারি বাসে ফ্রি যাত্রা! লোকতন্ত্র সেনানীদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, এবার পুজোর অনুদানের ক্ষেত্রে ‘সবাইকে সমান’ নীতি থেকে সরে প্রয়োজনভিত্তিক বণ্টনের দিকে যেতে পারে রাজ্য। তবে ১০ লক্ষ টাকার সীমা কার্যকর হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ দফতরের আলোচনার পরই পরিষ্কার হবে, এবারের শারদোৎসবে কোন পুজো কতটা সরকারি সহায়তা পেতে চলেছে।













