বাংলা হান্ট ডেস্ক: জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবার খান স্যরের কোচিং সেন্টারের (Khan Sir Coaching Centre) বাইরে গুলিচালনার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পাটনার মুসাল্লাহপুর হাট এলাকার ওই কোচিং প্রতিষ্ঠানের সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দোকানদারদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বুধবার সকালেও বহু ছাত্রছাত্রী কোচিং সেন্টারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তোলেন।
পাটনায় খান স্যারের কোচিংয়ের (Khan Sir Coaching Centre) বাইরে আচমকাই চলল গুলি
ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ফয়জল খান, যিনি খান স্যার (Khan Sir Coaching Centre) নামে পরিচিত, দাবি করেন যে এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে কোচিং ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাঁর অভিযোগ, কম খরচে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কিছু কোচিং মাফিয়ার নিশানায় রয়েছেন। খান স্যরের দাবি, কয়েকদিন আগেই কিছু সমাজবিরোধী তাঁর কোচিং সেন্টারে এসে প্রশ্ন তোলে কেন তিনি এত কম ফিতে পড়ান। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রতিষ্ঠান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই হুমকিরই পরিণতি হিসেবে এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর ধারণা। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট কোচিং প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি।
আরও পড়ুন: আর নয় প্লাস্টিকের বোঝা! দূষণ রুখতে পরিবেশ দিবসের আগে যুগান্তকারী ঘোষণা মাদার ডেয়ারির
খান স্যার আরও দাবি করেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর প্রতিষ্ঠান কাজ করে। তাঁর কথায়, শিক্ষার অধিকার শুধু আর্থিকভাবে সচ্ছলদের নয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষেরও রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সংস্থা এই বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না বলেই তাঁকে বারবার হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ঘটনার সময় কী হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, আহত নিরাপত্তারক্ষীকে ঘটনাস্থল থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র নির্মমভাবে মারধর করা হয়। তাঁর আঘাত এতটাই গুরুতর যে বর্তমানে তিনি কথা বলার অবস্থায় নেই। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও সামনে না এলেও হামলার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খান স্যার।
অন্যদিকে, পাটনার একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, খান স্যরের কোচিং সেন্টার এবং জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের কিছু ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষের রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে জড়ো হয় এবং তারা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা খান স্যরের কোচিং সেন্টারের ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

আরও পড়ুন: বিদেশেও শান্তিরক্ষায় অসামান্য সাফল্য! ৫৬৫ জন ভারতীয় সেনাকে পুরস্কৃত করল রাষ্ট্রসংঘ
কদমকুয়ান থানার আধিকারিক জনমেজয় কুমার জানিয়েছেন, খান স্যার কোচিং সেন্টারের (Khan Sir Coaching Centre) পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে জ্ঞান বিন্দু কোচিং কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ করেছে। ফলে পুলিশ সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ, নাকি কোচিং ব্যবসার প্রতিযোগিতা—সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালেও খান স্যরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার নতুন করে সেই বিতর্ক সামনে এসেছে। তবে প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে খান স্যার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত সিনিয়র আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।













