বাংলা হান্ট ডেস্ক : কিশোরী গর্ভধারণ রুখতে আরও সক্রিয় হচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর (Health Department)। স্বাস্থ্যভবনের সাম্প্রতিক বৈঠকে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক একাধিক তথ্য। তার মধ্যে অন্যতম, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গর্ভধারণ এবং বহুবার সন্তান প্রসবের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতেই দুটির বেশি সন্তান না নেওয়ার বিষয়ে আইন আনার কথা ভাবছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
দুইয়ের অধিক সন্তান রুখতে কড়া স্বাস্থ্যদপ্তর (Health Department)
সম্প্রতি প্রসূতি মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করতে স্বাস্থ্যভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই আলোচনায় আসে, অল্প বয়সে মাতৃত্বের পাশাপাশি বারবার সন্তানধারণও মায়েদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে কয়েকটি ঘটনার তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। কয়েকটি জেলায় ১৩তম এমনকি ১৪তম সন্তান প্রসবের সময়েও প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে পরিবার পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী, দুই সন্তানের পর দম্পতিদের স্থায়ীভাবে পরিবার পরিকল্পনার কথা ভাবা উচিত। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে গিয়ে বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক পরিষেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “দুটো মাত্র সন্তান নিন। দুটি সন্তান হয়ে গেলে, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসুন। রাজ্য সরকার বিনামূল্যে গর্ভ নিরোধক ব্যবস্থা করে দেবে।”
নাবালিকা গর্ভধারণের পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অত্যন্ত লজ্জার সঙ্গে বলছি নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশের মধ্যে একনম্বর পশ্চিমবঙ্গ।” মুর্শিদাবাদের সুতি ১, সুতি ২ এবং শামসেরগঞ্জ এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও জানান তিনি। রাজ্য সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের খতিয়ান প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মোট ২৩টি সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের বেশ কিছু পরিকল্পনাও সামনে আনা হয়। কলকাতায় নতুন একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির উদ্যোগ তার মধ্যে অন্যতম।
এর পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলিতে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পরিসর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে আয়ুর্বেদিক আউটডোর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে জায়গার অভাব হলে রোগীদের চিকিৎসা যাতে থমকে না যায়, সেই ব্যবস্থাতেও বদল আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী! কেন এমন আবেদন, কী বড় পরিকল্পনা?
শুধু ঘোষণা নয়, এই পরিষেবা কীভাবে কাজ করবে তা হাতেকলমে পরীক্ষা করেও দেখেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। সব মিলিয়ে, প্রসূতি মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো, নাবালিকা মাতৃত্ব ঠেকানো এবং পরিবার পরিকল্পনার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাকেও আরও মানুষের নাগালের মধ্যে আনার লক্ষ্য নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।













