ভয়ঙ্কর বন্যার পাশাপাশি মারাত্মক খরা! ভারতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে সুপার এল নিনো?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে এ বছর বর্ষা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)-র প্রভাব স্পষ্ট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশঙ্কাই এবার আরও জোরালো হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতির জেরে দেশের একাধিক অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে। তাপপ্রবাহ, কম বৃষ্টিপাত, খরা এমনকি কিছু এলাকায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বর্ষা স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল হতে পারে এবং তার নেপথ্যে মূল কারণ এই ‘সুপার এল নিনো’।

ভারতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে সুপার এল নিনো (Super El Nino)?

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের মূল উৎস প্রশান্ত মহাসাগরের জলতাপমাত্রা। সমুদ্রের উপরিভাগের জল অস্বাভাবিক ঠান্ডা হলে তাকে ‘লা নিনা’ বলা হয়, যার ফলে অতিবৃষ্টি ও তীব্র শীতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের জল উষ্ণ হয়ে ওঠে, তখন তাকে বলা হয় ‘এল নিনো’। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত বিশ্বজুড়ে গরম বৃদ্ধি পায়, বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং খরার ঝুঁকি বাড়ে। তবে এল নিনোর প্রভাব সব জায়গায় একরকম হয় না। কোথাও ভয়াবহ খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: সাতটি হাইওয়ের দায়িত্ব সামলাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা, বড় পদক্ষেপ নবান্নের

ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলকে এবার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, চম্বল, জবলপুর, রেওয়া, শাহডোল, সাগর ও নর্মদাপুরম অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলসংকটও তীব্র আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লি-এনসিআরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। ইতিমধ্যেই সেখানে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্ষাতেও খুব একটা স্বস্তি মিলবে না। বরং গরম ও আর্দ্রতার অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই ও তামিলনাড়ুতে দেখা যেতে পারে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। সেখানে অতিবৃষ্টির কারণে জলমগ্ন পরিস্থিতি ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর সময় দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যায়, যার জেরে শহরাঞ্চলেও ভয়াবহ জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

How will Super El Niño impact India?

আরও পড়ুন: অন্যদের কাছে যা ‘আবর্জনা’, তা দিয়েই ব্যবসা শুরু কলেজ ড্রপআউটের! এখন মিলছে ১ কোটির টার্নওভার

২০১৫-১৬ সালের এল নিনো পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন। সেই সময় মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। একই সময়ে চেন্নাই ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। কয়েক দিন ধরে শহর কার্যত জলের নিচে চলে গিয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তাই এবারের ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino) নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন থেকেই জল সংরক্ষণ, কৃষি পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।