বাংলা হান্ট ডেস্ক : সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে রাজ্যের এইচপিভি টিকাকরণ (HPV Vaccine) কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। এবার থেকে শুধু হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই নয়, সরকারি ও বেসরকারি স্কুলেও সরাসরি টিকা দেওয়া হবে। টিকাকরণের হার বাড়ানো এবং নির্ধারিত বয়সি কিশোরীদের আরও সহজে এই পরিষেবার আওতায় আনতেই শনিবার নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
এবার স্কুলেই এইচপিভি টিকাকরণ (HPV Vaccine)
স্বাস্থ্যভবনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৪০ জন ১৪ বছর বয়সি কিশোরী এইচপিভি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। কিন্তু গত দু’সপ্তাহে কর্মসূচির অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। সেই পরিস্থিতির পর্যালোচনার ভিত্তিতেই টিকাকরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দুটি পৃথক পদ্ধতিতে কর্মসূচি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার প্রথম পদ্ধতিতে স্কুলগুলিকে নিকটবর্তী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট স্কুলের উপযুক্ত ছাত্রীদের নির্দিষ্ট দিনে ওই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিশ্চিত করতে ম্যাপিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, কোনও বিদ্যালয়ে যদি অন্তত ৫০ জন যোগ্য ছাত্রীর তালিকা তৈরি হয় এবং তাঁদের অভিভাবকদের লিখিত সম্মতি পাওয়া যায়, তাহলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বিশেষ টিকাকরণ শিবিরের আয়োজন করা যাবে। এতে হাসপাতালে না গিয়েও ছাত্রীরা নিজেদের স্কুলে নিরাপদ পরিবেশে ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ পাবে।
টিকাকরণ শুরু করার আগে একাধিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অভিভাবকদের সঙ্গে সচেতনতামূলক বৈঠক, সম্মতিপত্র সংগ্রহ, ইউ-উইন (U-WIN) পোর্টালে আগাম নথিভুক্তিকরণ এবং টিকাদানকারী দলের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুধু টিকা দেওয়াই নয়, গোটা প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও বিস্তারিত নির্দেশ জারি হয়েছে।
ভ্যাকসিন সংরক্ষণের কোল্ড চেন অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে, কোনও ছাত্রী যেন খালি পেটে টিকা না নেয় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং টিকা নেওয়ার পর অন্তত আধ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় অ্যানাফাইল্যাক্সিস কিট ও অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশও রয়েছে।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার এফেক্ট! এবার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে সমস্যা রাজ্যে
এমনকি প্রতিটি টিকাকরণের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে ইউ-উইন পোর্টালে আপলোড করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, হাসপাতালের পাশাপাশি স্কুলভিত্তিক টিকাকরণ চালু হলে অনেক বেশি সংখ্যক কিশোরীর দ্রুত টিকাকরণ সম্ভব হবে। এর ফলে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচির পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনই ভবিষ্যতে এই রোগের ঝুঁকি কমাতেও তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।













