বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে টানা দু’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। এই আবহে প্ররোচনার অভিযোগ, পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক তরজা, সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় এবার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেলেডাঙ্গা
ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। বাঁশ ফেলে রেললাইনও অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা শাসক। পরে অবরোধ উঠলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
রাস্তা অবরোধ না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করেছিলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কারও নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তোলেন। তবে সেই অভিযোগ খারিজ করে মুখ খুলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে রাস্তা অবরোধ না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করেছিলেন।
হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আরও জানান, অবরোধ তুলতে পুলিশকর্তারাও তাঁকে ফোন করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সাহায্য চেয়ে এসপি আমাকে ফোন করেছিলেন। হরিহরপাড়ার আইসি-ও একাধিকবার ফোন করেন।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনের অনুরোধে নয়, মৃতদেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণেই অবরোধ উঠে যায়। এদিন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী-কে কটাক্ষ করে হুমায়ুন বলেন, “তিনি ঘোলা জলে মাছ ধরতে এসেছিলেন। তাঁকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছে।”
এদিকে নিজের দলের সভা নিয়েও মুখ খোলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান, ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে সভা করার জন্য আবেদন করা হলেও এখনও অনুমতি মেলেনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ও তৃণমূল, দু’পক্ষেরই আপত্তি থাকতে পারে। পরে জানা যায়, ব্রিগেডে সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শহিদ মিনারে সভার প্রস্তাব দেওয়া হলেও হুমায়ুন স্পষ্ট জানান, ব্রিগেড না পেলে তিনি মুর্শিদাবাদেই সভা করবেন।
শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবারও ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়, বন্ধ করে দেওয়া হয় চলমান রাস্তার কাজ। ভাঙচুর করা হয় রেল গেট, আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। পথে নামেন শ’য়ে-শ’য়ে মানুষ। শুক্রবারের মতো শনিবারও আক্রান্ত হন সাংবাদিকরা। মারধরের অভিযোগ ওঠে। এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। গতকাল পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। বিক্ষোভকারীদের একাধিক দাবি মেনে নিয়ে খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। তবে তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শনিবার সকাল থেকেই ফের বিক্ষোভ শুরু হয়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমার মনে হয় হ্রদের তলায় আরও অনেক শৈলশিখর রয়েছে’, ২৬০০০ চাকরি বাতিল ইস্যুতে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী…
এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) মন্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “রাজ্যে প্রশাসন নেই বলেই এই অবস্থা। আজ আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসছেন বলে বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সব বন্ধ, নেতাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্যই এসব।” পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন প্রশাসন, রাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা, সব দিক থেকেই বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়।












