বাংলাহান্ট ডেস্ক : রোগ-অসুখ হলে ডাক্তার দেখানো, ওষুধ খাওয়াই দস্তুর। কিন্তু এখন সামান্য জ্বর জারি হলেই অনেকে মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics) খান। কিন্তু এতে যে শরীরে কত বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা টের পাচ্ছেন না কেউই। এমন অনেক ঘটনা ঘটছে যেখানে অসুখ নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু সামান্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও তাতে রোগমুক্তি ঘটছে না। শেষে অন্য উপায় নিতে হচ্ছে ডাক্তারকে।
অ্যান্টিবায়োটিকের (Antibiotics) অপব্যবহার রুখতে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রের
জানা যাচ্ছে, এর কারণ হল ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’। সামান্য রোগ হলেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সামান্য সর্দিকাশির মতো অসুখেও যেভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে আইসিএমআর। সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালে উত্তরোত্তর বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার তাই নতুন গাইডলাইন আনছে কেন্দ্র।

চলছে গাইডলাইন তৈরির কাজ: শনিবার বেলেঘাটার নিরবি-তে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের পরীক্ষার আগেই ওষুধ প্রয়োগের প্রবণতা রুখতে জোর কদমে চলছে নতুন গাইডলাইন তৈরির কাজ। তিনি এও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics) দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন : ৬৪ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ার সম্ভবনা! SIR শেষ হতেই সামনে এল ভোটার বাদ পড়ার বড় হিসাব
কী থাকবে গাইডলাইনে: এই অতিরিক্ত ব্যবহারের জেরে ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে জীবাণু। এর ফলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আইসিএমআর সূত্রে খবর, নতুন প্রস্তাবিত গাইডলাইনে সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার নির্দেশিকা থাকবে চিকিৎসকদের জন্য। কোন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করিয়ে ওষুধ বদল করতে হবে, কতদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালানো প্রয়োজন তাও উল্লেখ করা থাকবে।
আরও পড়ুন : কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বাংলার কোন কোন স্টেশনে আসছে বদল?
পরীক্ষার আগেই কোনও কোনও ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে পারেন, তবে সেটা নির্ভর করে চিকিৎসকের দক্ষতা এবং পরিস্থিতির উপরে। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত গাইডলাইন কার্যকর হলে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার অনেকটা কমবে।












