বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় চর্চা শুরু হয়েছে। SIR প্রক্রিয়ার শুনানি শেষ হয়েছে শনিবার। খসড়া তালিকায় আগেই বহু নাম বাদ গিয়েছিল। এখন নতুন করে আরও নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় ঠিক কতজনের নাম থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ (SIR)
এখন চলছে নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আনম্যাপড ৩২ লক্ষ এবং লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় থাকা ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৯২ হাজার ৭৩৫ জনকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। সূত্রের দাবি, তাঁদের নাম বাদ যেতে পারে। যাঁরা শুনানিতে এসে নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার জনকে এখনও পর্যন্ত অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি।
এর আগে SIR-এর এনুমারেশন পর্বের পর খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। তার সঙ্গে যদি অনুপস্থিত ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার এবং ইতিমধ্যেই বাতিল হওয়া ১ লক্ষ ৬৩ হাজার নাম যোগ হয়, তাহলে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৪ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রায় দেড় কোটি শুনানি হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টি ERO ও AERO-দের হাতে। যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ছিল কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে না, তাঁদের আলাদা করে অর্ডার দেওয়া হবে। তাঁরা চাইলে আগে DEO, পরে CEO-র কাছে আবেদন করতে পারবেন। আর যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ছিল না, তাঁদের FORM 6 জমা দিতে হবে।
এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) আরও ৩৮ জনের নাম বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। জানা গেছে, এঁরা বাংলাদেশের ভোটার হলেও তাঁদের কাছে এ রাজ্যের ভোটার কার্ড রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজারের মতো জাল ভোটার কার্ডের তথ্য মিলেছে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূল সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, কমিশন নির্দেশ না মানায় মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে এবং চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবার এই নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে তৃণমূল।

আরও পড়ুনঃ একসঙ্গেই করা যাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথীতে আবেদন, বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর, কীভাবে করবেন?
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় (SIR) যদি কারও আপত্তি থাকে, তিনি প্রথমে DEO অর্থাৎ জেলা শাসকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। সেখান থেকে সন্তুষ্ট না হলে CEO-র কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। CEO সই করার পরেই তালিকা চূড়ান্ত হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, অনেক জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ভোটের দিনেই এর জবাব দেবে মানুষ।












