ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কেন হামলা? প্রকাশ্যে ওমানের কো-পাইলটের পরিচয়, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্যও

Published on:

Published on:

Identity of the Omani co-pilot accused in the Flydubai incident revealed publicly.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Incident) বিমানে মাঝআকাশে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের (Smit Machchhar) উপর হামলার ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর নাম হামাম আল-হামামি (Hamam Al-Hamami) এবং তিনি ওমানের নাগরিক। বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী FZ1073 বিমানে ককপিটের ভিতর আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিমানটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়। এখন তদন্তকারীদের নজরে হামামির অতীত, তাঁর মানসিকতা এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন।

প্রকাশ্যে ফ্লাইদুবাই ঘটনায় (Flydubai Incident) অভিযুক্তকে ওমানি কো-পাইলটের পরিচয়:

তদন্তে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে হামামির আগের কর্মজীবন সংক্রান্ত তথ্য। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানে কর্মরত থাকার সময় তাঁর আদর্শগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং পরে তাঁকে বিমান চালানো থেকে বিরত রাখা হয়। অন্য কয়েকটি রিপোর্টেও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় তাঁর আচরণ ও কথিত উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওমানের এই সিদ্ধান্তের কথা অন্য দেশ বা বিমান সংস্থাগুলিকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর তিনি কীভাবে ফের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে পৌঁছলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে (Flydubai Incident)।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে আন্দোলনের ডাক! ‘দিল্লি চলো’-র আহ্বান ককরোচ জনতা পার্টির

ঘটনার দিন FZ1073 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। বিমানটি উত্তর সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, হামামি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতির মধ্যে বিমানটি দ্রুত অনেকটা নীচে নেমে যায়। গুরুতর আহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলট এবং যাত্রী-ক্রুদের সহায়তায় হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে বিমানটি তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।

হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্তে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামামি ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন এবং বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যও তাঁর থাকতে পারে। তবে হামলার আগে ঠিক কী পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তিনি একাই কাজ করেছিলেন কি না কিংবা এর পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনও মেলেনি। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নেতৃত্বে তদন্তে হামলার উদ্দেশ্য, পূর্বপরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য কোনও যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে এখনই কোনও একটি কারণকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Identity of the Omani co-pilot accused in the Flydubai incident revealed publicly.

আরও পড়ুন: সামশেরগঞ্জের বাড়িতে আগুনে দগ্ধ বায়রন বিশ্বাস, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিধায়কের শারীরিক অবস্থা

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোনও পাইলটের অতীত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য অন্য দেশের বিমান সংস্থা পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছয় এবং নিয়োগের সময় সেই তথ্য কতটা যাচাই করা হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ককপিটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সরকারি তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামামি আল-হামামির উদ্দেশ্য, তাঁর অতীতের ঘটনাগুলি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির পূর্ণ উত্তর পাওয়া যাবে না (Flydubai Incident)।