বর্জ্য দিলেই মিলবে টাকা! বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এবার অভিনব মডেল, ঘোষণা করলেন দিলীপ

Published on:

Published on:

IIT Kharagpur new solid waste management for Government of West Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে বর্জ্যের সমস্যা আজকের নয়। জেলায় জেলায় দেখা যায় এই ছবি। এমতাবস্থায় কোমর বেঁধে নামল রাজ্য সরকার। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার (Solid Waste Management) হাল ফেরাতে এবার নতুন মডেলে হাঁটতে চাইছে রাজ্য। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানান, এবার বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার পরিবর্তে টাকা দেওয়া হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভিনব মডেল | (Solid Waste Management)

রাজ্যের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিমধ্যেই খড়গপুর আইআইটির দ্বারস্থ হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। মেদিনীপুর ও খড়গপুর শহরের বর্জ্য সমস্যা দূর করতে দিলীপের উদ্যোগে একটি পাইলট প্রোজেক্ট শুরু হয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রাম, দুই এলাকাতেই বর্জ্য ও দূষণ একটি বিরাট সমস্যা। নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভাবে যেখানে সেখানে নোংরা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ‘প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ নয়’! CJP-র অভিযানে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

দিলীপ বলেন, এই সমস্যা দূর করতে জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করে সঠিক ব্যবস্থাপনা দরকার। সেই জন্য খড়গপুর আইআইটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুনভাবে কাজের নীলনকশা বানানো হচ্ছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে এই কাজের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েতকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। কোথাও কিছু পিলার দাঁড়িয়ে, কোথাও আবার নোংরা তোলার গাড়ি থাকলেও চালক নেই। পুরসভার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আগের সংস্থাগুলিও এই নিয়ে কোনও কাজ করেনি। সেই কারণে পুরনো ব্যবস্থা ছেড়ে নতুন মডেল বেছে নিতে চাইছে রাজ্য।

দিলীপ জানান, গ্রামীণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের থেকে কোনও টাকা নেবে না, বরং সরকারকে টাকা দেবে। সংগ্রহ করা বর্জ্য থেকে নানা ধরণের জৈব সার তৈরি করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

Solid waste management

এই বিষয়ে খড়গপুর আইআইটির ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী বলেন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রামোন্নয়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজের রূপরেখা বানিয়ে ফেলেছে তাঁদের অধ্যাপক এবং গবেষকদের একটি টিম। শীঘ্রই সেই রূপরেখা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে এই নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মউ স্বাক্ষর হতে পারে। এই জোড়া পাইলট প্রোজেক্ট যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে গোটা রাজ্যে তা চালু করা হবে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন দিলীপ ঘোষ। কয়েকদিন আগেই পঞ্চায়েত দফতরে নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এবার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন মডেলের কথা জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী।