বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) রাজনৈতিক অবসরের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। দিল্লিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী উপদেষ্টা সরকারের প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন এবং গোটা দেশে গণআন্দোলনের ডাক দেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে ‘সুদখোর, ফ্যাসিস্ট, খুনি ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন।
দিল্লি থেকে অডিও বার্তায় প্রত্যাবর্তনের ডাক দিলেন হাসিনা (Sheikh Hasina)
দিল্লির এই আলোচনাসভায় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী উপস্থিত ছিলেন। অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার আদর্শ থেকেই তিনি আবারও দেশবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত হরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আজ বাংলাদেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সর্বত্র হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম হয়েছে।
আরও পড়ুন: আরও কিছুদিনের স্বস্তি, মহুয়ার ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় লোকপালকে আরও দুমাস সময় দিল হাইকোর্ট
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করারও অভিযোগ তোলেন, যার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই সমগ্র পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি বর্তমান শাসকদের দায়ী করেন এবং তাদের ফ্যাসিবাদী মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের আবেদন জানান।
একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার ডাক দেন। আওয়ামী লীগকে একটি পুরোনো কিন্তু দায়িত্বশীল দল হিসেবে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে উদ্ধার করতেই তারা বদ্ধপরিকর। শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি বর্তমান প্রশাসনকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, ভোটারদের ভয় দেখানো বন্ধ করা এবং অবিলম্বে হিংসা থামানোর আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: কনের সাজে নজরকাড়া মধুমিতা, ফিশ ফ্রাই থেকে মোগলাই খানা, কী ছিল বিয়ের মেনুতে?
তাঁর প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক সংস্থাগুলিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করা। বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সর্বশেষে গত বছরের ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন বাংলাদেশের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।












