জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বাতিল সামরিক কুচকাওয়াজ! শোচনীয় অবস্থা পাকিস্তানের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক:  গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতির জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল পাকিস্তান (Pakistan) সরকার। ইসলামাবাদ ঘোষণা করেছে, আগামী ২৩ মার্চ পালিত পাকিস্তান দিবসে আর হবে না ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ। বহু বছর ধরে এই দিনে সেনা শক্তির প্রদর্শন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসব পালিত হলেও, এবারে সেই আয়োজন বাতিল করতে হয়েছে তীব্র আর্থিক ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে।

আর্থিক সঙ্কটে স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ পাকিস্তানে (Pakistan)

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর প্রস্তাবের স্মরণে পাকিস্তান দিবস উদযাপন করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিফলন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এবং অনেকেরই ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে ভারত! পাঠানো হল চিকিৎসা সরঞ্জাম, ধন্যবাদ জানাল তেহরান

এই সংকটের অন্যতম কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, বিশেষত ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা। ওই অঞ্চল থেকেই তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে। পেট্রোল, ডিজেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস—সবকিছুরই সরবরাহ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য। ৯ মার্চ থেকে ১৫ দিনের জন্য সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে, আর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। সরকারি দপ্তরগুলি সপ্তাহে মাত্র চার দিন খোলা থাকবে এবং সেই দিনগুলিতে অর্ধেক কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এই ব্যবস্থা সাময়িক হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

Independence Day Parade Cancelled in Pakistan Amidst Financial Crisis

আরও পড়ুন: ইজরায়েলের বিমান হানায় মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের! প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর পুত্র মোর্তজাও

অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মাঝেই আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কাবুলে একটি হাসপাতালে হামলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের সেনার বিরুদ্ধে, যেখানে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর আফগানিস্তান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে একদিকে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সঙ্কট, অন্যদিকে সীমান্ত উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ইসলামাবাদ।