বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ভারত (India-Iran)। ইরানের জন্য চিকিৎসা সহায়তার প্রথম চালান ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে এবং তা হস্তান্তর করা হয়েছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হাতে। এই চালানে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভারত-ইরান (India-Iran) সম্পর্কের নতুন সমীকরণ:
গত কয়েক সপ্তাহে সংঘাতের জেরে ইরানের বহু হাসপাতাল, ফার্মাসিউটিক্যাল কেন্দ্র এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৬০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, উদ্ধারকারী যান এবং চিকিৎসা সরঞ্জামেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে আহতদের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ এবং জীবনরক্ষাকারী সামগ্রীর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে গোটা দেশে।
আরও পড়ুন: হরমুজ সঙ্কটের আবহে স্বস্তি পেল ভারত! তেলের জন্য নতুন রুট খুলে দিল সৌদি আরব
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ইরান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানায়। সেই আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেয় ভারত। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা বিমানযোগে পাঠানো হয় তেহরানে। এই চালানটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিই বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরানের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে ভারতের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, “ভারতের সম্মানিত ও দয়ালু মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই সহায়তা ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।” এই বার্তাকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সংহতির প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইজরায়েলের বিমান হানায় মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের! প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর পুত্র মোর্তজাও
উল্লেখ্য, ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক দেশ হিসেবে ভারতের সক্ষমতা এই ধরনের সংকটকালে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অতীতেও, বিশেষ করে কোভিড মহামারীর সময়ে, ভারত ইরানকে ওষুধ সরবরাহ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সহায়তা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












