বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের আবহে প্রভাবিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এমতাবস্থায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির আবহেই ভারতের জন্য একটি বড় খবর সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, তেলের সরবরাহ (Oil Import) বজায় রাখতে একটি নতুন পন্থার অবলম্বন করছে সৌদি আরব। যা ভারতকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সাহায্য করছে বলেও জানা গিয়েছে।
তেলের (Oil Import) জন্য নতুন রুট খুলে দিল সৌদি আরব:
মূলত, সাম্প্রতিক এই সঙ্কটের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরব এখন তেল রফতানির জন্য লোহিত সাগর পথ ব্যবহার করা শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরে স্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে ভারতীয় বন্দরগুলির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ভারতে অতিরিক্ত ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল পৌঁছতে পারে।

জানিয়ে রাখি যে, সৌদি আরবের তেল সাধারণত পূর্ব উপকূল থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে সরাসরি পাঠানো হয়। তবে এখন, দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিম উপকূলে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হচ্ছে। এই পাইপলাইনটি প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত এই তেল পরিবহণ করা হচ্ছে। যেখান থেকে ট্যাঙ্কারগুলি সরাসরি ভারত এবং এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এর আগে সাংবাদিকের সঙ্গে বিতর্কে জড়ালেন KKR-এর তারকা প্লেয়ার! অ্যাকশন নেবে বোর্ড?
এই পথটি কী নিরাপদ: এই নতুন পথটি তেল পরিবহণে ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করলেও ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ, এই পথে ট্যাঙ্কারগুলিকে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি এলাকা। অতীতে এই পথে আক্রমণের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও, আরও কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন পাইপলাইনের ধারণক্ষমতা সীমিত। তাই, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাঠানো তেলের মতো বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়না। তাই, এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থাৎ, কোনও পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়।
আরও পড়ুন: বড়সড় সঙ্কটের সম্মুখীন! বাতিল হবে PSL? পাকিস্তানে সফরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এই দেশের
ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: জানিয়ে রাখি যে, সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতের তেলের প্রধান চাহিদা উপসাগরীয় দেশগুলি থেকেই পূরণ হয়। সরবরাহ অব্যাহত থাকলে মুদ্রাস্ফীতির আকস্মিক চাপ কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এদিকে, হরমুজ সঙ্কটের মধ্যে সৌদি আরবের নতুন তেল পথ ভারতকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই, আগামী দিনগুলিতে বিশ্ব তেল সরবরাহ ও দামের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।












