বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ! প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশবান্ধব শক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক এবার মহাজোট বাঁধল ভারত ও আমেরিকা (India-America)। মঙ্গলবার দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্যই হল সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির জন্য অত্যাবশ্যক ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ বা বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে এই খনিজের ক্ষেত্রে চিনের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানোও এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
রেয়ার আর্থ মিনারেলসের ক্ষেত্রে বড় চুক্তি ভারত-আমেরিকার (India-America):
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বিরল খনিজের খনি, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চিনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ড্রোন, মিসাইল এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মূলত এই রেয়ার আর্থ মিনারেলস থেকেই তৈরি হয়। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে এই খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার কারণে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলি বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। ভারত-আমেরিকার এই নতুন ফ্রেমওয়ার্ক সেই বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কলকাতা বিমানবন্দরে বড় দুর্ঘটনা, লিফ্ট ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত ৩ জন
এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘ফোরাম অন রিসোর্স জিওস্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট’ বা FORGE বৈঠকের মাধ্যমে। সেই বৈঠকের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। আমেরিকান দূতাবাস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের এই চুক্তি মূলত সেই আলোচনারই পরবর্তী ধাপ। এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে কৌশলগত খনিজের অনুসন্ধান, উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহের জন্য একটি ‘বিশ্বস্ত ও স্থিতিশীল’ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক বাজারকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বিরল খনিজের সন্ধানে যৌথ বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তির আদানপ্রদান, খনিজ প্রক্রিয়াকরণে সহযোগিতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও আমেরিকা (India-America)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের খনিজ ও উৎপাদন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কারণ, ভারত বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে সেই শিল্পগুলির জন্য অত্যাবশ্যক কাঁচামালের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই চুক্তিকে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের গভীর কৌশলগত সম্পর্কের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই ফ্রেমওয়ার্ক শুধু খনিজ ব্যবস্থাপনাই নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনায় ভারতের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁর বক্তব্য, দুই গণতান্ত্রিক দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতের বিশ্ব অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন: চালু নতুন পোর্টাল, যুবশক্তির জন্য কীভাবে করবেন আবেদন? রইল স্টেপ বাই স্টেপ গাইড
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াইয়ের মধ্যে ভারত-আমেরিকার (India-America) এই ঘনিষ্ঠতা নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে রেয়ার আর্থ মিনারেলসকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে এই ফ্রেমওয়ার্ক ভারত ও আমেরিকার জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।













