বাংলাহান্ট ডেস্ক: গাজার জন্য শনিবার ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তিকমিটির ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই কমিটিতে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের (India) পাশাপাশি পাকিস্তানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সূত্রের খবর, গাজার এই শান্তিকমিটিতে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আমেরিকার পক্ষ থেকে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গাজার জন্য ‘বোর্ড অফ পিস’-এ আমন্ত্রণ পেলে ভারত (India) ও পাকিস্তান
হাজার বিতর্কের পর গাজা প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানকে কার্যত একই বন্ধনীতে রাখল ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, গাজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারতকে উপেক্ষা করা হলে তা নয়াদিল্লির কাছে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হতে পারত। তবে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানানোয় সেই সমীকরণ কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ হলেও, এই উদ্যোগ ঘিরে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুন: শুধুমাত্র ২০২৫-এই ভিড় জমিয়েছেন ৫.৩১ লক্ষ ভারতীয় পর্যটক! এই পড়শি দেশের হাল ফেরাচ্ছে ভারত
ঘটনাচক্রে, গাজার শান্তিকমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইজরায়েলের আপত্তিও উপেক্ষা করেছেন ট্রাম্প। সূত্রের দাবি, গাজা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পাকিস্তান নিজেই আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং সেই মর্মে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল। কিন্তু এরপরই ইজরায়েল স্পষ্ট জানায়, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে রাজি নয়। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুবেন আজহার প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘‘আমরা কেবলমাত্র যাদের বিশ্বাস করি, তাদের সঙ্গেই কাজ করি।’’
ইজরায়েলের অভিযোগ, হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নাজি জাহির গত তিন বছর ধরে নিয়মিত পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন এবং সেখানে লশকর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তেল আভিভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গাজায় পাক সেনাবাহিনী বা পাকিস্তানের কোনও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভূমিকায় তারা আপত্তি জানাবে। উল্লেখ্য, প্যালেস্তাইনের দৃঢ় সমর্থক পাকিস্তান আজও ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, যা দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের কারণ।

আরও পড়ুন: ৫ বছরে মিলেছে ১,১২৩ শতাংশ রিটার্ন! শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মালামাল করেছে এই স্টক
গাজার জন্য ট্রাম্প ঘোষিত এই শান্তিকমিটিকে তাঁর প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আপাতত এই কমিটি গাজার শাসনভার নেবে এবং পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ তদারকি করবে। পরিকল্পনায় গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই সমিতির শীর্ষে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা, ধনকুবের মার্ক রোয়ান ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ থাকবেন ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে।












