PoK-র মানুষও থাকতে চান ভারতের সঙ্গে! শাকসগাম ইস্যুতে কী জানালেন লাদাখের লেফ্টন্যান্ট গভর্নর?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: শাকসগাম উপত্যকা ঘিরে চলমান বিতর্কে শনিবার স্পষ্ট অবস্থান নিল ভারত (India)। সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬৩ সালে হওয়া শাকসগাম সংক্রান্ত চুক্তি সম্পূর্ণ বেআইনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শাকসগাম ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সেখানে চিনের যেকোনো নির্মাণকর্ম বা কার্যকলাপকে দিল্লি বৈধ বলে মানে না। সম্প্রতি চিন ওই অঞ্চলে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা ঘিরে ভারত-চিন কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও তীব্র হয়েছে।

শাকসগাম ইস্যুতে মুখ খুলল ভারত (India)

প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি চিন শাকসগামের উপর নিজেদের আধিপত্যের পক্ষে সওয়াল করে। তার পাল্টা তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, লাদাখের অন্তর্গত এই অঞ্চল ঐতিহাসিক ও আইনি দিক থেকেই ভারতের অংশ। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে পাকিস্তানের ভূমিকা। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয়, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে দাবি ভারতের।

আরও পড়ুন: মেলা ঘুরুন নিশ্চিন্তে, সেন্ট্রাল পার্কের গেটেই মিলবে মেট্রোর টিকিট, ছুটির দিনেও পরিষেবা

এই আবহেই লাদাখের লেফ্টন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্তা এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় নিশানা করেন। তিনি বলেন, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে সেখানকার সাধারণ মানুষও ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে। তাঁর দাবি, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যখন পাকিস্তান নিজেই ভেঙে পড়বে। একই সঙ্গে চিনের প্রতিও বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করাই বেজিংয়ের পক্ষে বুদ্ধিমানের হবে।

শাকসগামে চিনের নির্মাণকাজ নিয়ে ভারতের অসন্তোষ যে গভীর, তা স্পষ্ট করে দেন লাদাখের লেফ্টন্যান্ট গভর্নর। তিনি বলেন, পাকিস্তান কার্যত একটি ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া দেশ’, যারা আর্থিক লাভের জন্য ভারতের ভূখণ্ডে চিনকে কাজ করতে দিচ্ছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই উপত্যকা ভারতের এবং ভারতই এর পূর্ণ স্বীকৃতি দেবে। পাকিস্তানের ভূমিকা উপেক্ষা করেই নয়াদিল্লি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: গিগ কর্মীদের সুরক্ষায় তৎপর কেন্দ্র! বিজ্ঞাপনে আর নয় ১০ মিনিটে ডেলিভারির দাবি, কী জানাল সংস্থাগুলি?

উল্লেখযোগ্যভাবে, শুক্রবারই ভারত সরকার শাকসগাম উপত্যকায় চিনের অবকাঠামো প্রকল্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায় এবং জানিয়ে দেয় যে, এই অঞ্চল ভারতীয় ভূখণ্ড হওয়ায় নিজের স্বার্থ রক্ষায় সব রকম পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। তার পরেই বেজিং পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। সেই উত্তপ্ত আবহেই সেনাপ্রধান ও লাদাখের লেফ্টন্যান্ট গভর্নরের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল, শাকসগাম প্রশ্নে দিল্লি কোনওরকম আপসের পথে হাঁটতে নারাজ।