বাংলাহান্ট ডেস্ক: যুদ্ধের ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে ড্রোনের ব্যবহারও। সেই বদলের ছোঁয়া লেগেছে ভারতেও (India)। এবার হেলিকপ্টার থেকেই ড্রোন মোতায়েন করে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের দিকে নজর দিচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Army) বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বায়ুসেনার প্রকাশ করা একটি দরপত্রে এমন ড্রোনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, যা হেলিকপ্টার থেকেই লঞ্চ করা সম্ভব হবে এবং উড়ানের পর সেই ড্রোনকে নিয়ন্ত্রণও করা যাবে। প্রস্তাবিত ড্রোনটির প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়ার সক্ষমতা এবং অন্তত ৫০০ গ্রাম ওজনের অস্ত্র বহনের ক্ষমতা থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের সংঘাতে আকাশপথ থেকে দ্রুত এবং অপেক্ষাকৃত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য নতুন ধরনের প্রযুক্তি হাতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
হেলিকপ্টার থেকেই হবে লঞ্চ, নতুন ড্রোন খুঁজছে ভারত (India):
তবে নজর শুধু ছোট ড্রোনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আরও বড় এবং শক্তিশালী আনম্যানড ভেহিকেল বা ড্রোন নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে বায়ুসেনা। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্মটি পণ্যবাহী বিমান থেকে মোতায়েন করা যাবে বলে জানা যাচ্ছে। এর কার্যক্ষমতার পরিধিও অনেক বেশি—প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পাশাপাশি প্রায় ৩০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত অস্ত্র বা পেলোড বহনের সক্ষমতা এবং ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা রয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে মূল প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি শত্রুর প্রতিরক্ষা অঞ্চলের কাছে না নিয়ে গিয়েও দূর থেকে মনুষ্যবিহীন অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: অসুখে ছিল স্ত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা! সাহসের সঙ্গে শুরু অভিনব ব্যবসা, এখন ৪৮ লক্ষের আয় দিল্লির দম্পতির
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের গুরুত্ব কতটা বেড়েছে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। নজরদারি থেকে শুরু করে লক্ষ্য চিহ্নিত করা এবং আক্রমণ—বিভিন্ন ভূমিকায় ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ও ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছিল। ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান থেকে আসা ড্রোনগুলির কয়েকটি প্রতিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোকাবিলা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল বলে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল। এই অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতের সংঘাতে দূরপাল্লার এবং আরও স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ বাড়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
ড্রোন এবং লয়টারিং অ্যামিউনেশনের কার্যকারিতা নিয়ে সম্প্রতি বক্তব্য রেখেছেন ভারতের প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান। নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি পাকিস্তানের সারগোদা এবং তার উত্তরে কিরানা হিলস এলাকার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের আগে সারগোদা এবং তার আশপাশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় লয়টারিং অ্যামিউনেশন পাঠানো হয়েছিল। মূলত ওই এলাকার রেডার বা অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করাই ছিল সেগুলির উদ্দেশ্য। এগুলি নির্দিষ্ট সময় আকাশে ঘুরে সম্ভাব্য লক্ষ্য খোঁজে এবং সেই সময়ের মধ্যে কোনও লক্ষ্য শনাক্ত না হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিজেই বিস্ফোরিত হতে পারে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

আরও পড়ুন: চার মাসেই ‘ককরোচ’ শিবিরে ভাঙন! নতুন দল গড়ে CJP-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মণীশ ব্রহ্মভট্টের
অনিল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের লয়টারিং অ্যামিউনেশনের কার্যক্ষমতা প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। সেই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যবস্তু না মিললে কোনও একটি এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনাও থাকে। কিরানা হিলস নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেন, সেখানকার কোনও একটি জায়গায় এমন অস্ত্র আঘাত করে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে, হেলিকপ্টার থেকে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে পণ্যবাহী বিমান থেকে ছোড়া দূরপাল্লার আনম্যানড প্ল্যাটফর্ম—ভারতীয় বায়ুসেনার সাম্প্রতিক আগ্রহে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে মনুষ্যবিহীন প্রযুক্তির গুরুত্বই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে দরপত্রে প্রয়োজনীয়তার কথা থাকা মানেই সেই নির্দিষ্ট ড্রোন ইতিমধ্যেই বাহিনীর হাতে এসেছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না (India)।













