বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও (Iran)। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানি-নির্ভর দেশগুলির উপর, বিশেষ করে ভারতের মতো অর্থনীতিতে।
ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে ভারত (India)
এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে সক্রিয় হয়েছে ভারত। এতদিন রাশিয়া ও ইরানের তেলের উপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন নয়াদিল্লি একাধিক দেশের দিকে ঝুঁকছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ভেনেজুয়েলা। কমোডিটি অ্যানালিটিক্স সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসেই ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতে পৌঁছতে পারে, যা এই দেশ থেকে এত বড় পরিমাণে প্রথম আমদানি।
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহে ফের রেপো রেটে পরিবর্তন? কী জানালেন RBI governor?
তবে ভেনেজুয়েলার তেল তুলনামূলকভাবে সস্তা হলেও, তা সরাসরি গ্রাহকদের সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই তেল অত্যন্ত ভারী ও অপরিশোধিত, যা পরিশোধন করতে অতিরিক্ত খরচ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে কেনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াজাত করার খরচ যোগ হয়ে মোট দাম প্রায় একই পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাই এই তেল আমদানি মানেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে, এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে হরমুজ প্রণালীর উপর, যেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল দেশে আসে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে দেশে জ্বালানির ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়, যদিও এখনও সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

আরও পড়ুন:দিনভর কাটল এজলাসে, প্রচার ছেড়ে হাইকোর্টেই বসে রইলেন অভয়ার বাবা মা, কিন্তু কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া যায়, তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা কমবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই বিকল্প উৎসের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন ভারতের (India) প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে।












