বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহে ফের রেপো রেটে পরিবর্তন? কী জানালেন RBI governor?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের আর্থিক নীতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা-র নেতৃত্বে মনিটারি পলিসি কমিটির তিন দিনের বৈঠকের পর বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, রেপো রেট (Repo Rate) অপরিবর্তিত রাখা হবে। টানা চতুর্থবারের মতো এই হার না কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিসি। বর্তমানে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

যুদ্ধের আবহে রেপো রেট (Repo Rate) নিয়ে কি জানালেন RBI Governor?

এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল কারণই হল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা। ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গভর্নর জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে সুদের হার কমানোর ঝুঁকি নেওয়ার বদলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখাই এখন বেশি জরুরি।

আরও পড়ুন: বড় আপডেট LPG-তে! ৫ কেজি ছোটু সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়ছে দ্বিগুণ, লেটেস্ট দাম কত দেখুন

রেপো রেট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যার উপর ভিত্তি করেই দেশের ব্যাঙ্কগুলি ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে। এর আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রেপো রেট কমানোর সুযোগ থাকতে পারে। তবে সেই আশা ভঙ্গ হল এই সিদ্ধান্তে। ফলে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ঋণগ্রহীতা, বিশেষ করে বাড়ি ও গাড়ির ঋণ নেওয়া মানুষদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে ইএমআইতে। যেহেতু অধিকাংশ খুচরো ঋণের সুদের হার এই বাহ্যিক মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাই রেপো রেট না কমলে ঋণের মাসিক কিস্তিও কমবে না। অর্থাৎ, যারা ইতিমধ্যেই ঋণ শোধ করছেন, তাঁদের জন্য কোনওরকম আর্থিক স্বস্তি মিলছে না।

What did the RBI Governor say about the Repo Rate amidst the war?

আরও পড়ুন: অভাবের তাড়নায় ৪৫ দিনের সন্তানকে বিক্রি মায়ের! বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলল…

এমপিসির বৈঠকের পর গভর্নর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি বাড়তে থাকে, তবে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হার কমানো হলে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অধিকাংশ সদস্যই রেপো রেট (Repo Rate) অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, বর্তমান আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান লক্ষ্য।