বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে ফের আন্তর্জাতিক জলপথে অস্থিরতা তৈরি হল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় ভারতের (India) একটি তেলবাহী জাহাজের উপর হামলার অভিযোগ উঠল ইরানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালিকে তলব করে ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক, এমনটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
হরমুজে জাহাজে গুলি করা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত (India):
সূত্রের খবর, ভারতীয় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জাহাজে থাকা কর্মীদের কেউ আহত হননি বলেও জানা গিয়েছে। তবু এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের রুট হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ অবরোধ ইরানের! বাড়ছে চিন্তা
প্রসঙ্গত, আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির পর ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, নির্দিষ্ট পথ মেনেই জাহাজ চলাচল করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু সেই ঘোষণার পরেও একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানি বাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘জগ অর্ণব’ নামের একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার, যা ইরাক থেকে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে আসছিল, সেটিকেই লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই জাহাজটির পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’। ঘটনার পরপরই ভারত কূটনৈতিক পথে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়।

আরও পড়ুন:নির্বাচনের আবহে কলকাতা পুরসভার লক্ষ্মী লাভ ! আয় হল ২০০০ কোটির বেশি
এদিকে, ব্রিটিশ সেনার তরফেও দাবি করা হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড দু’টি পণ্যবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। যদিও ওই জাহাজগুলির কোনও গুরুতর ক্ষতি হয়নি এবং সকলেই নিরাপদে রয়েছেন। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার আগেই কয়েকটি ভারতীয় ও গ্রিক জাহাজ নিরাপত্তার অভাবে হরমুজ পেরোতে না পেরে ফিরে যায়। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

















