সিন্ধু চুক্তি স্থগিত হওয়ায় গ্রীষ্মের মরশুমে চরম সঙ্কটে পাকিস্তান! জলের জন্য নতুন ছক কষছে পড়শি দেশ

Published on:

Published on:

India-Pakistan conflict over Indus Water Treaty escalates again.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের ভারত-পাকিস্তান (India-Pakistan) সংঘাত তুঙ্গে। সবে বাংলার বৈশাখ মাস শুরু হয়েছে, আর এই বৈশাখ অর্থাৎ এপ্রিলের গরমেই রীতিমতো প্রাণ ওষ্ঠাগত গোটা দেশের। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নদী-নালা শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে, জলের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত। এই জলসঙ্কট শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রতিবেশী দেশগুলিতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সিন্ধু চুক্তি স্থগিত হওয়ায় গ্রীষ্মের মরশুমে চরম সঙ্কটে পাকিস্তান (India-Pakistan):

এই সঙ্কটের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সিন্ধু নদের জলপ্রবাহ নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন। প্রায় এক বছর আগে পহেলগামে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তার পরেই নয়াদিল্লি সিন্ধুর জল সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। এতে পাকিস্তানের জলসঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কমিশনের শ্যেনদৃষ্টিতে যাদবপুর, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল, দ্বিতীয় দফার আগে বড় নির্দেশ

১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বৈঠকও ডেকেছেন। তবে সেখানে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ নিয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়নি বলেই দাবি ভারতের।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ জানান, চুক্তির কথা বলার আগে মানবজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর কথায়, সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না করলে এই চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল আচরণ দুই পক্ষেরই হওয়া প্রয়োজন।

India-Pakistan conflict over Indus Water Treaty escalates again.

আরও পড়ুন: আবার খরচ বাড়ার সম্ভাবনা, সাবান ছাড়াও আরও জিনিসে দাম বাড়তে পারে

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকটাই সিন্ধুর জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই জলপ্রবাহে বাধা পড়ায় তাদের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে। যদিও পাকিস্তান (India-Pakistan) আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তাদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলেই মনে করা হচ্ছে।