বাংলাহান্ট ডেস্ক: চলতি রমজান মাসের মাঝেই ফের নতুন করে উত্তেজনা আফগানিস্তানে। অভিযোগ উঠেছে পড়শি পাকিস্তান (Pakistan Attacked) ফের আফগানিস্তান-এর উপর বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, কোনও রকম জঙ্গিঘাঁটি নয়, বরং মসজিদ ও মাদ্রাসাকে লক্ষ্য করেই আছড়ে পড়েছে পাক গোলা। ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছে ভারত এবং কাবুলের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
আফগানিস্তানে হামলা নিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan Attacked) বিরুদ্ধে সরব ভারত:
সূত্রের খবর, গভীর রাতে আচমকাই আকাশপথে হামলা চালানো হয়। আবদুল্লা জান, নাসিম গুল ও মহম্মদ জুবেরের মতো স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকাতে কোনও সামরিক ঘাঁটি বা কোনওরকমের সশস্ত্র কার্যকলাপ চলছিল না। তবু সেখানে হামলা চালানো হয় আর পাকিস্তানি বাহিনীর সেই হামলায় সেখানে বহু বাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১০ লক্ষ আফগানি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভূস্বর্গে ফের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিশানা করছে জঙ্গিরা! মিলল হুমকি পোস্টার, ছড়িয়েছে আতঙ্ক
অন্যদিকে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, নিরীহ মহিলা ও শিশুদের এই মৃত্যুর জবাব দেওয়া হবে। তিনি জানান, ইসলামাবাদ যে ধরনের হামলা চালিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবিকতা নীতির পরিপন্থী। যার সময়মতো উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, রমজান মাসে আফগানিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি আরও বলেন, মহিলা ও শিশুদের এভাবে মৃত্যু যথেষ্ট উদ্বেগজনক এবং ভারত সবসময় আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতিতে কাবুলের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: ১৮,০০০ টাকা থেকে বেতন হবে ৫৮,৫০০? নয়া বেতন কমিশন সরকারি কর্মীদের দিতে পারে দারুণ খবর
আফগান সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, নাঙ্গারহার ও পাকটিকা প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহতও হয়েছেন। যদিও সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। তাঁদের মতে ওই অঞ্চলে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেটের মদতে জঙ্গি কার্যকলাপ চলছিল এবং পাকিস্তানে নাশকতা হামলার পরিকল্পনাও হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবির মাঝেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই গোটা পরিস্থিতির দিকেই নজর রাখছে।












