বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুরুতর জখম অবস্থাতেও নিজের কর্তব্য থেকে সরে আসেননি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার (Smit Machchhar)। ককপিটে (FlyDubai Incident) জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, এবার তারই স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates)। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানগুলির অন্যতম ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ দ্বিতীয়’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে স্মিতকে। তাঁর পাশাপাশি সম্মান জানানো হয়েছে বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পাচ্ছেন ভারতীয় এই পাইলট। বিপদের মুহূর্তে নিজের আঘাতের কথা ভুলে যাত্রীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাঁর সিদ্ধান্তকেই সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের অনন্য নজির হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার (Smit Machchhar) পেলেন উসর সর্বোচ্চ সম্মান:
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের তরফে এই সম্মান প্রদান করা হয়। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মিত মচ্ছার (Smit Machchhar) সহ বিমানকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের হাত দিয়ে তাঁদের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হয়। শেখ হামদান একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাইয়ের শাসক তথা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও। বিপদের সময় মানুষের জীবন রক্ষায় বিমানকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে সে দেশের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, জনসুরক্ষা এবং নাগরিকদের জীবন বাঁচানো তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: আর যেতে হবে না স্টেশনে! ভারতীয় রেল শুরু করতে চলেছে ডোর-টু-ডোর পার্সেল সার্ভিস
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তাঁর প্রশংসা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিমানে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন। নিজের চোট উপেক্ষা করে ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে বিমানকর্মী ও যাত্রীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজে এগিয়ে আসার সুযোগ পান। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। এই ঘটনার পর গত ৩ অক্টোবর আহত পাইলটকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান। সেখানে স্মিতের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জীবন রক্ষায় আত্মনিবেদনের প্রশংসা করেন তিনি। পরে সমাজমাধ্যমেও পাইলটের প্রতি দেশের নেতৃত্বের শ্রদ্ধা ও সম্মানের কথা তুলে ধরেন শেখ হামদান।
শুধু সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নেতৃত্বই নয়, স্মিতের এই সাহসিকতার প্রশংসা এসেছে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্যে বিপদের মুখে দায়িত্ববোধ এবং মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত, বিমানের অন্যান্য কর্মী এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল। অর্থাৎ, এই সাফল্যের নেপথ্যে একজন পাইলটের সাহসিকতার পাশাপাশি সংকটের মুহূর্তে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

আরও পড়ুন: এশিয়ান প্যারা গেমসে ৩ বার জেতেন সোনা! আত্মঘাতী অ্যাথলিট নীরজ যাদব, কেন এমন সিদ্ধান্ত?
এদিকে, স্মিতের আর স্বীকৃতি দিতে ইজরায়েলের তরফেও বেসামরিক সাহসিকতার জন্য বিশেষ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। চোট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে সেই সম্মান দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় পাইলটের পেশাদারিত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন। আকাশপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাইলট ও বিমানকর্মীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু যখন নিজের জীবনও বিপদের মুখে, তখন সেই দায়িত্ব পালন করা যে কতটা কঠিন, স্মিতের (Smit Machchhar) ঘটনা তা আরও একবার মনে করিয়ে দিল। তাঁর সাহসিকতার এই কাহিনি তাই শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সম্মান পাওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কর্তব্যে অবিচল থাকার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।














