বাংলা হান্ট ডেস্ক: কারো নেই মা, আবার কারো নেই বাবা। অনেকের আবার জীবনে মা বাবার মধ্যে আপন বলতে কেউ নেই। ছোটবেলাতেই হারিয়েছে তাদেরকে। যার ফলে ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া। সেই ছোট্ট বয়স থেকেই সংসার হীনতার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আশ্রয় হয়ে উঠেছিল ওই চার দেয়ালের ঘেরা আশ্রমে। কিন্তু এবার সেই আশ্রমে ঘর, পরিবার সেসব ছোট ছোট শিশুগুলি পড়াশোনা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া ও জীবনে প্রতিটা প্রয়োজনীতা মেটায়। কিন্তু এবার এই আশ্রমের গণ্ডি পার করে বাইরে দুনিয়া দেখার সুযোগ হয়ে উঠেছে ১০ জন অনাথ শিশু। কারণ এবার তারা সুযোগ পেয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে (Indian Railways) চাপার। এই ট্রেনে চেপে যথারীতি খুশিতে আপ্লুত হয়েছে ওই শিশুরা।
বিশেষ উদ্যোগে বন্দে ভারত স্লিপারে সফর করল ১০ অনাথ শিশু (Indian Railways)
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে (Indian Railways) সফর করল হবিবপুরের ১০ জন আদিবাসী অনাথ শিশু। পাশাপাশি সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখেও আপ্লুত তারা। স্লিপার ট্রেনে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে ট্রেনে করে ঘুরতে পেরে খুশিতে আত্মহারা ওই অনাথ শিশুরা। শনিবার মালদহে বন্দে ভারত সহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: সিউড়ি-সহ বীরভূমে একগুচ্ছ ট্রেনের নতুন স্টপেজে সবুজ সংকেত রেলের
রেলের এই অনুষ্ঠানে রেলের এই অনুষ্ঠানে কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে খবর পায় হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বানপুর এলাকার একটি অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ করা হয় রেলের সঙ্গে। তারপরেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আশ্রমের শিশুদের। এটাই ছিল তাদের কাছে প্রথমবার ট্রেনে চাপার অভিজ্ঞতা।
প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা নাড়িয়ে বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করার পর মালদহ থেকে কামাখ্যা রওনা হয়। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের বারসই স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে বিশেষ বাসে করে ফিরিয়ে আনা হয় মালদহ টাউন স্টেশনে। তাছাড়া ট্রেনে ছিল দুপুরের খাবারদাবার ও টিফিনের ব্যবস্থা।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের (Indian Railways) মেনুতে ছিল চারটি পরোটা, ডাল, পোলাও, ছানার বড়ার তরকারি, আলু ভাজা, দই ও মিষ্টি। তাছাড়া টিফিনে দেওয়া হয়েছিল চিঁড়ে ভাজা, চাল ভাজা, লাড্ডু ও জলের বোতল। সব মিলিয়ে এদিনের এই সফর আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকল শিশুদের কাছে।












