মায়ের গয়না বিক্রি করে পড়াশোনা! আজ মাইক্রোসফটে করছেন ১.৯ কোটির চাকরি, চমকে দেবে মনুর কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাফল্য (Success Story) অর্জন করতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বহু পরিবারকেই কঠিন আর্থিক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় সেই লড়াইয়ের নেপথ্যে থাকে বাবা-মায়ের নীরব ত্যাগ, যা বাইরের কেউ জানতেও পারেন না। সম্প্রতি এমনই এক হৃদয়স্পর্শী অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে ভাগ করে নিয়েছেন মাইক্রোসফটের (Microsoft) সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মনু আগরওয়াল (Manu Agarwal)। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই গল্প প্রকাশ্যে আসতেই তা অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মনুর কথায়, জীবনে পাওয়া সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবা-মায়ের, বিশেষ করে মায়ের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের। সেই কারণেই নিজের এই অভিজ্ঞতা তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁদের, যাঁদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পরিবারের সদস্যদের নিজেদের সঞ্চয়, স্বপ্ন কিংবা প্রিয় জিনিস পর্যন্ত ত্যাগ করতে হয়েছে।

মনু আগরওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

লিঙ্কডইনে মনু জানিয়েছেন, ব্যাচেলর অব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনস পড়ার সময় প্রতি সেমিস্টারের ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে এই অঙ্ক খুব বেশি না মনে হলেও, তখন তাঁদের পরিবারের কাছে সেই টাকাও জোগাড় করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। শেষ পর্যন্ত ছেলের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সেই জন্য তাঁর বাবা বাধ্য হয়ে মায়ের সোনার চুড়ি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। মনুর কথায়, মা একবারও আপত্তি করেননি, চোখের জলও ফেলেননি। নিঃশব্দে নিজের গয়না খুলে বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই দৃশ্য তাঁর মনে এতটাই গভীর ছাপ ফেলেছিল যে, সেদিন রাতে তিনি ঘুমোতেই পারেননি। তখনই তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, একদিন এই ত্যাগের মর্যাদা তিনি অবশ্যই রাখবেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: অফারের আড়ালে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা! IndiGo-Physics Wallah সহ ৯ টি সংস্থাকে জরিমানা কেন্দ্রের

পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে মনুর জীবন। ২০১৬ সালে হায়দরাবাদে মাইক্রোসফটে ইন্টার্ন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে বেঙ্গালুরুতে GE Healthcare-এ ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান। ২০১৭ সালে মাইক্রোসফটে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁর পেশাগত সাফল্যের পথ আরও প্রসারিত হয়। সংস্থার রেডমন্ড অফিসেও কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীকালে দুই বছরেরও বেশি সময় গুগলে কর্মরত থাকার পর ২০২৫ সালে আবার বেঙ্গালুরুতে মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কর্মজীবনের এই দীর্ঘ পথচলা প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব।

সাফল্যের শিখরে পৌঁছে একদিন মাইক্রোসফটের সিয়াটল অফিসে কাজ করার সময় মনুর বার্ষিক বেতন পৌঁছে যায় প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকায়। সেই সময় তিনি মাকে ফোন করে বলেন, এখন চাইলে তিনি মায়ের জন্য আগের সব গয়না আবার কিনে দিতে পারবেন। কিন্তু মায়ের উত্তরই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করে তোলে। মা শুধু বলেন, “তুই ফিরে আসার পরই তো সব ফিরে পেয়েছি।” এই কয়েকটি কথাই যেন মনুকে নতুন করে উপলব্ধি করায়, বাবা-মায়ের ভালোবাসা বা তাঁদের আত্মত্যাগের মূল্য কোনও অর্থ দিয়ে মাপা যায় না। তাই নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, জীবনের কিছু ঋণ কখনও টাকায় শোধ করা সম্ভব নয়।

Success Story of Manu Agarwal will Surprise you.

আরও পড়ুন: হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জের? শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা, ধরানো হল আগুন

মনু আগরওয়ালের এই অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ নয়, বরং অসংখ্য মধ্যবিত্ত ও সংগ্রামী পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে আজও বহু পরিবার নিজেদের প্রয়োজন, সঞ্চয় কিংবা মূল্যবান সম্পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সেই ত্যাগের ফল একদিন সন্তানের সাফল্যের (Success Story) মধ্য দিয়েই ফিরে আসে। মনুর গল্প তাই শুধু একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাফল্যের কাহিনি নয়, এটি বাবা-মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দলিল। তাঁর এই পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে এবং নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনও বড় সাফল্যের নেপথ্যে প্রায়শই লুকিয়ে থাকে পরিবারের অদেখা সংগ্রাম ও সীমাহীন ভালোবাসা।