বিশ্বজুড়ে মন্দার আবহেই এগিয়ে চলেছে দেশ! ভারতীয় অর্থনীতিতে ভরসা রেখে গ্রোথ রেট বৃদ্ধি IMF-এর

Published on:

Published on:

International Monetary Fund has increased India's growth rate.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতর প্রসঙ্গে এবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তথা IMF (International Monetary Fund) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের পূর্বাভাস বৃদ্ধি করে ৭.৩ শতাংশ করেছে। এই উন্নতির প্রধান কারণ হিসেবে কর্পোরেট আয়ের উন্নতি এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক গতিকেই উপস্থাপিত করা হয়েছে। IMF জানিয়েছে, শুল্ক সম্পর্কিত বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ভারতের গ্রোথের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী IMF (International Monetary Fund):

জানিয়ে রাখি যে, IMF-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের ২০২৫ সালের গ্রোথের পূর্বাভাস ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কর্পোরেট আয় প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। যদিও, IMF অনুমান করেছে যে, ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ভারতের বৃদ্ধি সামান্য পরিমাণে কমে ৬.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর জন্য অস্থায়ী এবং চক্রাকার (সাইক্লিক্যাল ফ্যাক্টর) কারণগুলির দুর্বলতা দায়ী থাকবে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

International Monetary Fund has increased India's growth rate.

কর্পোরেট মুনাফা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে: গত বছর, মন্থর কর্পোরেট মুনাফা বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত বিক্রি এবং শেয়ার বাজারের অস্থিরতাও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল। তবে, এখন কর্পোরেট মুনাফায় উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। IMF-এর মতে এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনবে। সামগ্রিকভাবে এই উন্নতি ভারতের অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার পরাজয়ের জন্য দায়ী কে? রাখঢাক না রেখে বড় প্রতিক্রিয়া সুনীল গাভাস্কারের

বিশ্ব অর্থনীতিতে AI-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: IMF-এর মতে, মার্কিন শুল্ক এবং বাণিজ্য উত্তেজনা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতি শক্তি প্রদর্শন করেছে। এই বছর বিশ্বব্যাপী গ্রোথ ৩.৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যা অক্টোবরের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হিসেবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০০১ সালের পর থেকে আমেরিকায় আইটি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। যা এশিয়ার টেক এক্সপোর্টেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুন: অলিম্পিকে ক্রিকেটার হিসেবে নামবেন উসেইন বোল্ট? কী জানালেন বিশ্বের দ্রুততম মানব?

মুদ্রাস্ফীতি থেকে স্বস্তি মিললেও ঝুঁকি রয়ে গেছে: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুমান করেছে যে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ২০২৫ সালে ৪.১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৩.৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ভারতেও খাদ্যমূল্যের দাম কমার কারণে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও, IMF সতর্ক করে জানিয়েছে যে, AI সেক্টরে উচ্চ ভ্যালুয়েশন, আমেরিকার শেয়ার বাজারের পতন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এই কারণগুলি বিশ্ব বাজার থেকে শুরু করে সাপ্লাই চেন এবং সুদের হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।