বাংলা হান্ট ডেস্ক: শেয়ার বাজারে ফের মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের। দিনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ১,১০০ পয়েন্ট ওপরে উঠে শেয়ার বাজার দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও এই প্রত্যাবর্তন বিনিয়োগকারীদের কোনও কাজে এল না। ফলস্বরূপ, বিনিয়োগকারীদের ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনসেক্স ৭৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে বন্ধ হয়েছে। যেখানে নিফটি মাত্র ৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি । এদিকে, একসময় সেনসেক্সের সূচক ১০০০ পয়েন্টেরও বেশি কমে গিয়েছিল।
শেয়ার বাজারের (Share Market) কামব্যাকেও হল না লাভ!
মূলত, আইটি সেক্টরের উত্থান শেয়ার বাজারের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। এদিকে, গত সপ্তাহের পতন এবং সোমবারের প্রাথমিক পতনের পর সেনসেক্সে ভ্যালু বাইং দেখা গেছে। একইসঙ্গে, ইন্ডিয়া ভিআইএক্স-এরও উন্নতি হয়েছে, যার ফলে শেয়ার বাজারে তেজিভাব দেখা যায়। বর্তমান প্রতিবেদনে শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।

সেনসেক্স ও নিফটির প্রত্যাবর্তন: সোমবার শেয়ার বাজার সবুজ সঙ্কেতের সঙ্গে বন্ধ হয়েছে। মূলত, সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়ই সামান্য লাভে বন্ধ হয়েছে। তবে, সকালে বাজারের মনোভাব বেশ হতাশাজনক ছিল। এক পর্যায়ে, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক, সেনসেক্স, ১,০৫৭.৭৩ পয়েন্ট কমে ৭৪,১৮০.২৬ পয়েন্টে নেমে আসে। এরপর সেনসেক্স বাড়তে শুরু করে এবং সর্বনিম্ন স্তর থেকে ১,২৮৬.৩৪ পয়েন্ট লাফিয়ে দিনের সর্বোচ্চ স্তর ৭৫,৪৬৬.৬০ পয়েন্টে পৌঁছয়। তবে, সেনসেক্স শুক্রবারের বন্ধের তুলনায় ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫,৩১৫.০৪ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে।
এদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটিও একই ধারা অনুসরণ করেছে। মূলত সোমবার সকালে নিফটি ৩২৬.৪ পয়েন্ট কমে ২৩,৩১৭.১০ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে, পরে তা ঘুরে দাঁড়ায় এবং দিনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ৩৭৮.৫৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ২৩,৬৯৫.৬৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। এদিকে, বাজার বন্ধের সময়ে নিফটি ৬.৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৬৪৯.৯৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩ বছর বয়সে দেখা স্বপ্ন অবশেষে পূরণ! বাবা-মাকে দেওয়া কথা রাখলেন অনিল কুম্বলের পুত্র
বাজারে শেয়ারের অবস্থা: জানিয়ে রাখি যে, আইটি সূচক ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। কারণ ডলার শক্তিশালী হওয়ায় যেসব কোম্পানি তাদের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ডলারে অর্জন করে, তাদের মুনাফা ভালো হওয়ার প্রত্যাশা বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি ৫.৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে প্রত্যাশার চেয়ে কম মুনাফা ঘোষণা করায় টাটা স্টিলের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ কমেছে। এদিকে, পাওয়ারগ্রিডের শেয়ারের দাম ৪.১ শতাংশ কমেছে। যদিও, এই বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন সংস্থাটি মার্চ ত্রৈমাসিকে প্রায় ১০ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। এদিকে, সাধারণ প্রবণতার বিপরীতে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা গ্লেনমার্ক ফার্মা মার্চ ত্রৈমাসিকে তাদের নিট মুনাফায় ৯৭ শতাংশ বৃদ্ধির খবর জানানোর পর সংস্থাটির শেয়ারের দাম ১৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। জানিয়ে রাখি যে, নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক দিনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ১.৭ শতাংশ এবং ব্যাঙ্ক নিফটি দিনের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ১.৫ শতাংশ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় রেলে এবার নতুন লোগো! মিলল মন্ত্রকের অনুমতি, কেন হচ্ছে পরিবর্তন?
বিনিয়োগকারীদের কোনও লাভ হয়নি: মূলত, শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও তা বিনিয়োগকারীদের মোটেও সাহায্য করেনি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিনে BSE-র মার্কেট ক্যাপ যেখানে ৪,৬০,৫৯,২৭০.৪৬ কোটি টাকা ছিল; সেখানে সোমবার শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার পর তা কমে ৪,৫৮,৩৩,৭৫৪.৭৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, BSE-র মার্কেট ক্যাপ ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা কমে গেছে। যা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য লোকসানের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।













