বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় পরপর ব্যর্থতার কারণে ইসরোর (ISRO) GSLV-কে মজা করে ‘নটি বয়’ বা ‘দুষ্টু ছেলে’ বলা হত। সেই অতীতকে পিছনে ফেলে এবার সাফল্যের নতুন অধ্যায় লিখল ভারতের (India) জিওসিনক্রোনাইজ স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল। শুক্রবার ভোরে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হল GSLV-F17। ভারতীয় সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে উড়ে গিয়ে রকেটটি EOS-05 নামে অত্যাধুনিক Earth Observation Satellite-কে নির্ধারিত সাব-জিওসিনক্রোনাইজ ট্রান্সফার অরবিট বা Sub-GTO-তে পৌঁছে দিয়েছে। এটি GSLV সিরিজের ১৯তম উড়ান এবং এই মিশনের সাফল্য ইসরোর মহাকাশ কর্মসূচিতে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সফলভাবে নতুন উপগ্রহ EOS-05 উৎক্ষেপণ করল ইসরো(ISRO)
EOS-05-কে বিশেষ করে তুলেছে তার কক্ষপথ এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। ইসরোর (ISRO) তথ্য অনুযায়ী, এটি ভারতের প্রথম ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিনক্রোনাইস কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপে উপগ্রহটি Sub-GTO-তে পৌঁছেছে। এরপর প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে তাকে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাইস অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় এই কক্ষপথে পৌঁছনোর পর EOS-05 একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখতে পারবে। ফলে নীচু কক্ষপথে থাকা প্রচলিত Earth Observation Satellite-এর মতো বারবার দূরে সরে গিয়ে পরে ফিরে আসার প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ যাওয়ার ঝক্কি অতীত! রাস্তায় নামল বাড়তি সরকারি বাস, কখন কোথা থেকে পাবেন জানুন
এই সাফল্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা। সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, GSLV-F17 অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে তার কাজ সম্পন্ন করেছে এবং EOS-05-কে প্রয়োজনীয় কক্ষপথে স্থাপন করেছে। উপগ্রহটি কক্ষপথে পৌঁছনোর পর স্থিতিশীল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ইসরোর এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর বক্তব্য, EOS-05 বহনকারী GSLV-F17-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং ক্রমশ বাড়তে থাকা সক্ষমতার পরিচয়। দেশের মহাকাশ কর্মসূচি যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এই সাফল্য তারই প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
EOS-05-এর গুরুত্ব শুধু মহাকাশ গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলের ছবি ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা থাকায় আবহাওয়া, পরিবেশ, কৃষি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এই উপগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টি, বন্যা বা অন্যান্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত পরিস্থিতি বোঝার জন্য ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ বিশেষ কাজে আসবে। পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পরিকাঠামোর উপর নজরদারি এবং অন্যান্য কৌশলগত প্রয়োজনেও এই ধরনের উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এটিকে শুধুমাত্র ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ হিসেবে দেখার বদলে Earth Observation Satellite হিসেবেই দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

আরও পড়ুন: ফাইন দিয়েও বাঁচানো যাবে না ড্রাইভিং লাইসেন্স! ট্রাফিক আইন ভাঙা নিয়ে নতুন নিয়ম আনছে সরকার
GSLV-F17-এর সাফল্যের আরও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের GSLV-F10 মিশনে GISAT-1 বা EOS-03-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা সফল হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নতির পর এবার নতুন মিশনে মিলল সাফল্য। ইসরোর (ISRO) সরকারি তালিকাতেও ২০২১ সালের EOS-03 উৎক্ষেপণকে ব্যর্থ এবং ২০২৬ সালের EOS-05 মিশনকে সফল হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ‘নটি বয়’-এর পুরনো তকমা এখন অনেকটাই অতীত। GSLV-F17-এর এই সফল উড়ান শুধু একটি রকেটের জয় নয়, একই সঙ্গে ভারতের মহাকাশভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও বড় পদক্ষেপ।













