বাস্তবের “রবিনহুড”! ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়িয়ে কচিকাঁচাদের হাতে কলম তুলে দিলেন এই পুলিশকর্মী

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আমাদের সমাজে পুলিশকর্মীরা কার্যত “ত্রাতা”-র ভূমিকা পালন করেন। যেকোনো বিপদেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত থাকেন তাঁরা। সেই রেশ বজায় রেখেই এবার রাজস্থানের একজন পুলিশ কনস্টেবলের অভিনব এক উদ্যোগের কথা সামনে এল। যিনি ভিক্ষুক শিশুদের বর্তমানে নতুন এক দিশা দেখাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। এমনকি, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও আসতে দেখা যায়। তবে, সেইসব ঘটনাকে দূরে সরিয়ে রেখেই পুলিশকর্মীদের একাধিক অভিনব উদ্যোগের মন ভালো করা খবরও প্রকাশ পায়। এমনকি, সেগুলি ভাইরালও হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমতাবস্থায়, রাজস্থানের এই পুলিশকর্মীর উদ্যোগকেও স্যালুট জানাচ্ছেন সকলেই।

জানা গিয়েছে যে, ওই পুলিশকর্মীর নাম হল ধরমবীর জাখর। তিনি মূলত, রাজস্থান পুলিশ বিভাগে একজন কনস্টেবল। ২০১১ সালে পুলিশে যোগ দেন তিনি। তবে, তাঁর কাজে সঠিক দায়িত্বপালনের পাশাপাশি ধরমবীর রাজস্থানের চুরুতে “আপনি পাঠশালা” চালান। যে পাঠশালায় কয়েকশ দরিদ্র শিশু বিনামূল্যে পড়াশোনা করে।

মূলত, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ছুটি নিয়েছিলেন। যেই কারণে তিনি চুরু পুলিশ লাইনসে তাঁর কোয়ার্টারেই এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায়, ডিসেম্বরের প্রচন্ড ঠান্ডার সকালে তিনি কিছু শিশুর গলা শুনতে পান। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে, সেগুলি হল বস্তি থেকে পুলিশ লাইনে ভিক্ষা করতে ছোট্ট-ছোট্ট শিশুদের করুণ আর্তনাদ।

তারপরেই তিনি দেখেন যে, ওই শিশুদের হাতে শুধুমাত্র কয়েক টুকরো শুকনো রুটি ছিল। এমতাবস্থায়, তিনি তাদের নিজের কাছে ডেকে জানতে পারেন যে, অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ার কারণেই বাধ্য হয়ে ভিক্ষে করতে হয় তাদের। এরপরই তাদের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন ধরমবীর। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করে বন্ধুদের সহায়তায় ওই অসহায় শিশুগুলির জন্য বই, খাতা, কলম, পেন্সিল ও ব্ল্যাকবোর্ড কিনে দেন। এভাবেই শুরু হয় “আপনি পাঠশালা”-র পথচলা।

মূলত, ধরমবীর তাঁর নিজের বেতন এবং অন্যান্য কিছু সাহায্যের ওপর ভর করেই এই মহান উদ্যোগ চালাতে থাকেন। এমনকি, সেখানে শিশুর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দু’মাসের মধ্যেই প্রায় ৪০ জন শিশু “আপনি পাঠশালা”-তে আসতে শুরু করে। পাশাপাশি , চুরু মহিলা থানার তৎকালীন পুলিশ অফিসার বিক্রম সিং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে থানাতেই ওই শিশুদের পড়ার ব্যবস্থা করে দেন। রীতিমত খোলা আকাশের নিচে লেখাপড়া করতে থাকে তারা। আর আজ প্রায় ৫০০ টি শিশু “আপনি পাঠশালা”-তে এসে দক্ষতার সাথে পড়াশোনা করছে। এমতাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবেই ধরমবীরের এই মহতী উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন সকলেই।

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X