বাংলাহান্ট ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার কোডুমুর গ্রামের তরুণী জগথী রেড্ডি অল্প সময়ের মধ্যেই একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলে পৌঁছে গিয়েছেন সাফল্যের (Success Story) চূড়ায়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আয়ুর্বেদিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘চেঙ্গাভি’ ইতিমধ্যেই বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বায়োটেক বিজ্ঞানী ড. বিষ্ণু প্রশান্তের সঙ্গে যৌথভাবে এই সংস্থা শুরু করেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া চিকিৎসা ও আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক অথেনটিক বিউটি-স্কিনকেয়ার পণ্য তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জগথী রেড্ডির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
শৈশব থেকেই ভেষজের প্রতি আগ্রহ ছিল জগথীর। গ্রামের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠার সময় তিনি দেখেছেন, কীভাবে তাঁর দিদিমা রান্নাঘর ও মাঠের ভেষজ উপাদান দিয়ে ওষুধ ও রূপচর্চার পেস্ট তৈরি করতেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর ভাবনায় প্রভাব ফেলে। ২০২৪ সালে অ্যানালিটিক্সে বিবিএ সম্পন্ন করার পর তিনি হায়দ্রাবাদের আইএসবি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক ফর্মুলেশনের উপর আন্তর্জাতিক ডিপ্লোমাও নেন এবং বৈশ্বিক মান বোঝার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে সৌন্দর্য মেলায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: বন্ধ ৬,৬০০-রও বেশি সংস্থা, ধুঁকছে ৪২ শতাংশ কারখানা! মমতার আমলে বঙ্গের শিল্পে করুণ চিত্র
জগথীর স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায় যখন অভিজ্ঞ গবেষক ডঃ বিষ্ণু প্রশান্ত তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা দু’জনে মিলে ‘চেঙ্গাভি’ ব্র্যান্ড তৈরি করেন। নামটির মধ্যেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য—দক্ষিণ ভারতীয় শব্দ ‘চেন্নু’ অর্থাৎ সৌন্দর্য এবং ‘কাভি’ অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পবিত্র আভা থেকে এই নামকরণ। এই ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তাঁরা প্রাচীন আয়ুর্বেদিক জ্ঞানকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন ধরনের পণ্য বাজারে আনেন।
যদিও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালে চালু হয়, তার আগে প্রায় চার বছর ধরে গবেষণা ও উন্নয়ন পর্ব চলে। বিশুদ্ধ ভেষজ সংগ্রহ এবং কম উপাদানে কার্যকর ফর্মুলা তৈরি করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং রাসায়নিকমুক্ত উপাদানের উপর জোর দেন। বর্তমানে সংস্থার নিজস্ব উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যেখানে আয়ুশ জিএমপি নির্দেশিকা মেনে ত্বক, চুল ও পুরুষদের জন্য ২৪টিরও বেশি প্রিমিয়াম পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কেরলেও হল পরিবর্তন! গত পাঁচ দশকে এই প্রথম দেশের কোনও রাজ্যে নেই বাম সরকার
অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চ গুণমান যুক্ত পণ্যের জন্য ‘চেঙ্গাভি’ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অ্যামাজন ও মিন্ট্রার মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে ২৮টি অফলাইন স্টোরে এই ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই সংস্থাটি ১ কোটি টাকার টার্নওভার ছুঁয়েছে। এই সাফল্যের (Success Story) জন্য জগথী সিওএ অ্যাওয়ার্ড এবং পরিণীতি চোপড়ার হাত থেকে “নারী শক্তি” সম্মান পেয়েছেন। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক আয়ুষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর এখন ‘চেঙ্গাভি’ বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় আয়ুর্বেদের নতুন পরিচিতি গড়ে তুলতে প্রস্তুত।












