ইএম বাইপাসে জলাভূমি বুজিয়ে বহুতল নির্মাণ! প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল বিশেষ কমিটি

Published on:

Published on:

Javed Khan Under Probe Over EM Bypass Land Allegations
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ইএম বাইপাস এলাকায় জলাভূমি ভরাট করে একের পর এক বহুতল ও আবাসন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, জোর করে জমি দখল করার অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে কসবার তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের (Javed Khan)। এবার সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এলাকায় গেল রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন কমিটির সদস্যরা।

জাভেদ খানের (Javed Khan) বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?

রাজ্য সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তৈরি হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ ইএম বাইপাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় যান তদন্তকারীরা। যে সব জায়গা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি ঘুরে দেখেন তাঁরা। সেখানে ভরাট হয়ে যাওয়া জলাভূমি, তৈরি হওয়া আবাসন এবং ঘেরা জমিও রয়েছে।

জাভেদ খানের (Javed Khan) বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইএম বাইপাসের একাধিক জলাশয় ও জলাভূমি বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে। এলাকার কিছু জমি জোর করে দখল করে সেখানে প্রোমোটিং ও আবাসন তৈরির কাজ হয়েছে বলেও অভিযোগ। এমনকী, জলাশয় সংরক্ষণের নিয়ম না মেনেই বেশ কিছু বহুতল ও আবাসন তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।

ইএম বাইপাসের পাশে রয়েছে পূর্ব কলকাতার জলাভূমি বা ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস। কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই জলাভূমির বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এই এলাকায় জলাভূমি ভরাট হলে শহরের পরিবেশের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগেও এই এলাকায় জলাভূমি ভরাটের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল রাজ্য সরকারের বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। গত মাসে জলাভূমি বুজিয়ে ধাবা ও বেকারি তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের এক পুরপ্রতিনিধি বা প্রাক্তন কাউন্সিলরের মদতে ইএম বাইপাস এলাকায় জলাভূমি দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জাভেদ খানকে (Javed Khan) নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কয়েক মাস আগে দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জাভেদ খানের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি আবাসন প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই আবাসনগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও আইনি অনিয়ম হয়েছে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি বহুতল তৈরি করা হয়েছে। পরে নিয়ম না মেনে সেই ফ্ল্যাট বিক্রিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্তত সাতটি বড় আবাসন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কল্যাণ।

আরও পড়ুনঃ মহার্ঘ ভাতায় এগিয়ে কেন্দ্র, ছুটির বেলায় বাজিমাত বাংলার!

এখন তদন্তকারী কমিটি কী রিপোর্ট দেয় এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে (Javed Khan)।