বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুরুলিয়ার আদিবাসী জাতি ও মাহাতো সম্প্রদায়কে নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় (Garga Chatterjee)। সেখানে তিনি লেখেন, আদিবাসী ও মাহাতোদের মধ্যে বিভেদ বা বিদ্বেষ তৈরির চক্রান্ত ব্যর্থ করা বাংলার সব ভূমিপুত্রের জাতীয় দায়িত্ব। এবার সেই পোস্ট শেয়ার করে তাঁকে পাল্টা দিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (Jyotirmay Singh Mahato)। বাঙালিকে ভালোবাসতে হলে বিভাজন ছেড়ে ঐক্যের কথা বলতে বলেন তিনি।
গর্গের পোস্টের পাল্টা দিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ | (Jyotirmay Singh Mahato)
গত সোমবার রাতে গর্গ ফেসবুকে লেখেন, “পুরুলিয়ার সব আদিবাসী জাতি এবং মাহাতো সম্প্রদায়, দুইই বাংলার ভূমিপুত্র। আদিবাসীরা সবার আগে থেকে এই বাংলায় এবং মাহাতো সম্প্রদায় একদম জাত বাঙালি। তাঁদের মধ্যে বিভেদ বা বিদ্বেষ তৈরীর চক্রান্ত ব্যর্থ করা বাংলার সকল ভূমিপুত্রর জাতীয় দায়িত্ব। শুধু পুরুলিয়া না, পুরো মানভূম বাংলার ভূমিপুত্রদের।“

শুক্রবার সেই পোস্ট শেয়ার করে পুরুলিয়ার সাংসদ লেখেন, একজন জাত বাঙালি হিসেবে বাঙালি পরিচয়ের নামে বিভাজনের রাজনীতি দেখলে তিনি প্রতিবাদ করবেন। পাশাপাশি গর্গের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, বাঙালিত্ব কি মানুষকে আপন করে নেওয়ার শিক্ষা দেয় না মানুষকে আলাদা করে দেওয়ার রাজনীতি শেখায়?
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার মতোই কালীপুজোর আগে মিলবে বার্ধক্য ভাতা! দিনক্ষণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও ঐক্যে বাংলার প্রকৃত দর্শন, একথা স্মরণ করিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন জ্যোতির্ময়। তাঁর কথায়, বাংলার মাটিতে বসে লেখা জাতীয় সঙ্গীতে সমগ্র দেশের ঐক্য, বৈচিত্র্য ও আত্মপরিচয় প্রতিফলিত হয়। তাহলে সেই বাংলার মানুষকে আজ সংকীর্ণ পরিচয়ের বেড়াজালে বন্দি করার চেষ্টা কেন হচ্ছে?
বিজেপি সাংসদ লেখেন, অন্যকে ছোট করার মধ্যে কখনও বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না। বরং বাঙালির মনন, সাহিত্য, দর্শন, মানবিকতা ও উদার সাংস্কৃতিক চেতনাতেই শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তাঁর কথায়, “বাংলা বরাবরই ভারতের সাংস্কৃতিক মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। এই বাংলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসেছেন, থেকেছেন, কাজ করেছেন, বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছেন। তাঁদের অবদানও বাংলার ইতিহাসের অংশ।“
জ্যোতির্ময় স্পষ্ট করে দেন, পুরুলিয়ার সাঁওতাল, মুণ্ডা, ভূমিজ সমাজ, মাহাতো সমাজ, রাঢ়বঙ্গের মানুষ থেকে বাংলার অন্য প্রান্তের মানুষ, সবার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের মর্যাদা রয়েছে। তবে সেই পরিচয়কে হাতিয়ার করে বিভাজনের দেওয়াল তুলে দেওয়া কোনও সুস্থ বাঙালি মানসিকতার পরিচয় হতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর সরাসরি গর্গের নাম নিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ লেখেন, “গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে মনে রাখতে বলব, বাঙালিত্ব কোনও সংকীর্ণ ভৌগোলিক বা জাতিগত শংসাপত্র নয়। বাঙালিত্ব একটি উদার সাংস্কৃতিক চেতনা। রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দের বাংলায় বিভাজনের রাজনীতিকে, বাঙালির সংস্কৃতি বলে চালানোর চেষ্টা, আসলে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যকেই অপমান করা।“
সবশেষে জ্যোতির্ময় জানান, তিনি নিজের জাত বাঙালি পরিচয় নিয়ে গর্বিত। তবে তাঁর বাঙালিত্ব কখনও তাঁকে ভারতবর্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শেখায়নি। বরং দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে, সম্মান করতে শিখিয়েছে।
বাংলা ও ভারতবর্ষ সবার, একথা স্মরণ করিয়ে বিজেপি সাংসদ লেখেন, “বাঙালিকে ভালোবাসতে হলে বিভাজন নয়, ঐক্যের কথা বলুন। বাঙালির সংস্কৃতির কথা বলতে হলে রবীন্দ্রনাথের উদারতা, নজরুলের সাম্য এবং বিদ্যাসাগরের মানবিকতার কথা বলুন। সংকীর্ণতার রাজনীতি করে বাঙালিত্বের একমাত্র ঠিকাদার হওয়া যায় না। বাংলা সবার, ভারতবর্ষও সবার। এই উদারতাই বাঙালির প্রকৃত পরিচয়।“












