বাংলাহান্ট ডেস্ক: অভাব ও ব্যর্থতার ঘন অন্ধকার ভেদ করে অদম্য মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্যের (Success Story) আলোকবর্তিকা হয়েই উঠেছেন কে. জয়গণেশ। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের প্রশাসনিক শীর্ষে পৌঁছানো দরিদ্র তরুণ-তরুণীর কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তামিলনাড়ুর ভেলোর জেলার ভিনভমঙ্গলম গ্রামের এক চর্ম শিল্পীর সন্তান জয়গণেশের বাবার মাসিক আয় ছিল মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসার চালানোই ছিল এক কঠিন সংগ্রাম।
কে. জয়গণেশের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের কষাঘাত বুকে নিয়েও পড়াশোনায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন তিনি। দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯২ শতাংশ নম্বর পাওয়ার সুবাদে বৃত্তি লাভ করেন এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পান। তবে আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নিতে সমান্তরালভাবে একটি বেসরকারি চাকরি শুরু করতে বাধ্য হন। কিন্তু ইউপিএসসির স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে চাকরি, পড়াশোনা ও প্রস্তুতি—এই ত্রিমুখী চাপ সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠলে তিনি চাকরি ছাড়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন:বৃদ্ধি পাবে ভারতের সামরিক শক্তি! AI এনাবেল্ড ড্রোন-মিসাইল বানাবে আদানি গ্রুপ, কত হবে খরচ?
চাকরি ছাড়ার পরের জীবন আরও বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি ওয়েটারের কাজ থেকে শুরু করে সিনেমা হলে বিলিং ক্লার্কের মতো ছোটখাটো কাজ করেন, যেখানে মাসিক আয় ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই সামান্য উপার্জন থেকেই তিনি ইউপিএসসি কোচিংয়ের ব্যয় বহনের চেষ্টা চালিয়েছেন, যদিও অর্থাভাবে শেষ পর্যন্ত কোচিং ছাড়তে হয়। তবুও নিজেই পড়াশোনা করে প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন অবিচলভাবে।
এরই মধ্যে পরপর ৬ বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় ব্যর্থতা তাঁকে আঘাত করলেও দমিয়ে দিতে পারেনি। সপ্তম প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালের পরীক্ষায় অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখেন জয়গণেশ। তিনি ১৫৬ তম স্থান অধিকার করে ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবায় (আইআরএস) নির্বাচিত হন। এই জয় নিছকই একটি পরীক্ষায় পাশের গল্প নয়, ছিল দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও অসংখ্য ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এক যোদ্ধার চূড়ান্ত বিজয়।

আরও পড়ুন যুবভারতীর আতঙ্ক ক্যানিং স্টেডিয়ামে! MLA কাপ ফাইনাল ঘিরে বিশৃঙ্খলায় পদপিষ্ট পরিস্থিতি, আহত শিশু-সহ ৭
বর্তমানে কে. জয়গণেশ চেন্নাই, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি অঞ্চলে অতিরিক্ত কমিশনার অব ইনকাম ট্যাক্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের ইউনিফর্ম থেকে ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবার ইউনিফর্মে পৌঁছানোর তাঁর এই যাত্রাপথটি স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে, অসম্ভব বলে কিছু নেই—প্রয়োজন কেবল অটুট মানসিক দৃঢ়তা ও লক্ষ্যের প্রতি একনিষ্ঠতার।












