চাকরি ছেড়ে মাত্র ২,০০০ টাকায় ব্যবসা শুরু করে ৫৬ লক্ষের টার্নওভার! নজির গড়লেন কবীর

Published on:

Published on:

Kabir Singh's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজধানী দিল্লির এক সাধারণ যুবকের স্বপ্ন আজ দেশের স্টার্টআপ জগতে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছা থেকে শুরু করে মাত্র ২ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে সফল (Success Story) ব্যবসা গড়ে তোলা, কবীর সিংয়ের এই যাত্রাপথ এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তার কাছে সাহসের গল্প। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপ “ওয়ে! মোমো” বর্তমানে রেস্তোরাঁ, ফুড ট্রাক এবং ক্লাউড কিচেনে টাটকা মোমো সরবরাহ করে লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা করছে। খুব অল্প সময়েই এই ব্র্যান্ড উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে পরিচিতি পেয়েছে।

কবীর সিংয়ের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):

২০২০ সালে স্নাতক সম্পূর্ণ করার পর কবীরের লক্ষ্য ছিল কানাডা অথবা জার্মানিতে গিয়ে ভবিষ্যৎ গড়া। কিন্তু কোভিড-১৯ অতিমারি এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা থমকে যায়। বাধ্য হয়ে দিল্লিতেই থেকে যান তিনি। সেই সময় একটি ক্যাফেতে কাজ শুরু করেন কবির। কাজের সূত্রে তিনি খাদ্য ব্যবসার বাস্তব চিত্র কাছ থেকে দেখতে পান। তখনই তাঁর নজরে আসে, বাজারে তাজা এবং উন্নত মানের মোমোর চাহিদা থাকলেও সরবরাহে রয়েছে বড় ঘাটতি। অধিকাংশ বিক্রেতাই হিমায়িত মোমোর উপর নির্ভর করতেন, যার গুণগত মান নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ ছিল।

আরও পড়ুন:ভারতের নতুন চিফ অফ ডিফেন্স এনএস রাজা সুব্রমণি! সামনে এল দেশের পরবর্তী নৌসেনা প্রধানের নামও

এই সুযোগকেই ব্যবসার ভিত্তি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন কবির। ২০২৫ সালে চাকরি ছেড়ে মাত্র ২ হাজার টাকার কাঁচামাল এবং একটি স্টিমার নিয়ে শুরু করেন নিজের উদ্যোগ। প্রথমদিকে তাঁর মা এবং গৃহকর্মী পাপ্পুর সাহায্যে বাড়ির রান্নাঘরেই তৈরি হতো মোমো। শুরুতে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, প্রকৃত বাজার রয়েছে বিটুবি বা ব্যবসা থেকে ব্যবসা সরবরাহ ব্যবস্থায়। এরপর থেকেই রেস্তোরাঁ এবং ক্লাউড কিচেনগুলিতে মোমো সরবরাহ শুরু করেন তিনি। সারারাত মোমো বানিয়ে সকালে নিজেই স্কুটারে করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিতেন।

ব্যবসা বাড়াতে সামাজিক মাধ্যমকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেন কবির। ইনস্টাগ্রামে মাত্র ২০০ টাকার একটি বিজ্ঞাপন দিয়েই তিনি প্রায় ১ লক্ষ টাকার অর্ডার পান। এর পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং মোমো তৈরির প্রক্রিয়া লাইভ স্ট্রিম করে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেন। ধীরে ধীরে তাঁর উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর সংস্থা প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মোমো তৈরি করছে। দিল্লির বাইরে পাঞ্জাব, গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন শহরেও পৌঁছে যাচ্ছে এই মোমো।

Kabir Singh's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের পাশে ছিল চিন! যুদ্ধবিমান মেরামতির কথা স্বীকার বেজিংয়ের

বর্তমানে “ওয়ে! মোমো” স্টার্টআপের বার্ষিক আয় প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা। শুধুমাত্র মোমো সরবরাহ নয়, কবীর এখন নিজস্ব ফুড কার্ট ব্যবসাও শুরু করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি বাইরের বিনিয়োগকারীদের উপর নির্ভর না করে নিজের উপার্জনের টাকাতেই ব্যবসা বাড়ানোর পথে হাঁটছেন। তাঁর লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি শহরে উন্নত মানের তাজা মোমো পৌঁছে দেওয়া এবং একটি স্বনির্ভর ও সফল (Success Story) খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা। সংগ্রাম, ধৈর্য এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, কবীর সিংয়ের গল্প যেন সেই বাস্তব উদাহরণ।