বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তাই কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং ছটপুজোয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না নবান্ন (Nabanna)। পুজোর মণ্ডপ থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা, সব জায়গাতেই বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মণ্ডপে সুন্দর থিম তৈরির জন্য আলো কমানো বা অন্ধকার পরিবেশ রাখা যাবে না।
পুজোর মণ্ডপে আলো ও নিরাপত্তা নিয়ে কড়া নির্দেশ নবান্নের (Nabanna)
গত ২৯ অক্টোবর রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। সেখানে কালীপুজো, দীপাবলি, জগদ্ধাত্রী পুজো, কার্তিক পুজো এবং ছটপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই বৈঠকের পরেই নিরাপত্তার জন্য একগুচ্ছ নিয়ম জানিয়ে এসওপি প্রকাশ করেছে নবান্ন (Nabanna)।

দুর্গাপুজোর সময় চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর রাস্তা এবং থিমের নামে অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও একাধিকবার জানিয়েছেন, এমন কোনও থিম করা যাবে না, যার জন্য মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা হয়।
চোরবাগানের ঘটনার তদন্তে তৈরি সিটের চেয়ারপার্সন তথা প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীও জানিয়েছিলেন, ওই মণ্ডপে আলো পর্যাপ্ত ছিল না। তাই এবার কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপে আলো রাখার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। মণ্ডপের ভিতরে, ঢোকা ও বেরনোর রাস্তায় এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের প্রতিটি জায়গায় পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। থিমের জন্য কোথাও অন্ধকার করে রাখা যাবে না।
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং বারাসত, নৈহাটির কালীপুজোয় প্রতি বছর প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। সেই ভিড় সামলাতেও বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি পুজোর মণ্ডপ এবং ছটপুজোর ঘাটে ঢোকা ও বেরনোর জন্য আলাদা করে নিরাপদ ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। বড় পুজোগুলিতে অ্যাম্বুল্যান্সও রাখতে হবে। পুজো উদ্যোক্তাদেরই প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।
একসঙ্গে অনেক মানুষ যাতে মণ্ডপে ঢুকে না পড়েন, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একদল দর্শনার্থী বেরিয়ে যাওয়ার পরেই পরের দলকে ঢুকতে দেওয়া যাবে। মণ্ডপের নকশা ঠিক রয়েছে কি না, তা পুলিশ ও মহকুমাশাসকদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
বাজি ফাটানো নিয়েও কড়া নিয়ম করা হয়েছে। পুজোর মণ্ডপ এবং ছটপুজোর ঘাটের কাছে কোনও বাজি ফাটানো যাবে না। বেআইনি বাজি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে শুধু পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহার করেন, তা দেখার দায়িত্ব থাকবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর।মাইক বাজানোর ক্ষেত্রেও নিয়ম মানতে হবে। সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি মাইক বাজানোর সময় নিয়ে যে নিয়ম রয়েছে, সেটাও ঠিকভাবে মানতে হবে।
ছটপুজোর ঘাটের নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, প্রাথমিক চিকিৎসার দল এবং সিসিটিভি রাখতে হবে। কোনও বিপদ হলে যাতে দ্রুত সবাইকে জানানো যায়, তার জন্য মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এছাড়া নদী বা জলাশয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে জলের দিকে ব্যারিকেড দিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী এবং লাইফ জ্যাকেট রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কালীপুজোর আগের দিন থেকে ছটপুজোর পরের দিন পর্যন্ত পুরসভাগুলিকে কন্ট্রোল রুম চালু রাখতে হবে। কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই কারণেই এই নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)।












