বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ফের শিরোনামে উঠে এসেছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (Recruitment Scam)। সম্প্রতি বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই দুর্নীতি কাণ্ডের অন্যতম ‘মিডলম্যান’ তাপস মণ্ডল। এবার এসব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন ‘কালীঘাটের কাকু’ (Kalighater Kaku) ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও তাঁকে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়।
অভিষেককে আড়াল করছেন? কী বললেন ‘কালীঘাটের কাকু’ | (Kalighater Kaku)
শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার নথি নিতে এসেছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। শীঘ্রই এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত। সেই কারণে এদিন তাঁর হাতে বিচারপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত নথি হস্তান্তর করা হয়। সেই সময়ই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢুকলে কি আবার আবেদন করা যাবে? সংশোধনের উপায় জানুন
সংবাদমাধ্যমের তরফে ‘কালীঘাটের কাকু’কে প্রশ্ন করা হয়, আপনার মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ১৯ কোটি টাকা গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কী বলবেন? উনি কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চাইছেন না? আপনার কী মনে হয়?
এইসব প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে চাননি সুজয়কৃষ্ণ। হাত নেড়ে সেকথা বুঝিয়ে দেন তিনি। এরপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়? আপনাকে কি ‘সাহেবের’ দায় নিতে হল? এই নিয়েও কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
সাংবাদিকরা ‘কালীঘাটের কাকু’কে জিজ্ঞেস করেন, আসল দোষী কে? আসল দোষী শাস্তি পাক এটা কি আপনি চান? জবাবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেন তিনি। এরপর কারা শাস্তি পাক আপনি চান জিজ্ঞেস করায় শুধু বলেন, “যারা দোষী”। এই ‘যারা’টা কারা? তাতে পাল্টা বলেন, “আমি কীভাবে বলব?” তাঁকে দায় নিতে হল কিনা জিজ্ঞেস করায় হাত জোড় করে সুজয়কৃষ্ণ বলেন, কোনও মন্তব্য করতে চান না।
এরপর ‘কালীঘাটের কাকু’কে সরাসরি সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি আপনি আড়াল করছেন? তখন ফের হাতজোড় করে বলেন, “আমায় ছাড়ুন না প্লিজ”। গাড়িতে উঠে আদালত চত্বর ছেড়ে বেরনোর আগে শুধু বলেন, “দোষীরা শাস্তি পাক চাই। যারা দোষী, তাঁরা শাস্তি পাবে। আদালত বিচার করবে। আদালতের উপরেই সব ছাড়ছি”।

সম্প্রতি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের অন্যতম ‘মিডলম্যান’ তাপস বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সব জানতেন বলে ধারণা তাঁর।
তাপস দাবি করেন, অভিষেকের কাছে ‘কালীঘাটের কাকু’র মাধ্যমে টাকা পৌঁছত। টাকা না পৌঁছলে ভেরিফিকেশন আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হত বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
এদিন অভিষেককে নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখে পড়েন ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ। একের পর এক প্রশ্নের পর অবশেষে মুখ খুললেও কোনও কিছু খোলসা করেননি তিনি।













