বাংলাহান্ট ডেস্ক: এখনকার যুগে অনেকের ক্ষেত্রেই পুঁথিগত বিদ্যা বা অ্যাকাডেমিক পাশ-ফেল এই ব্যাপার গুলো বেশ খানিকটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস অদম্য ইচ্ছা শক্তি, এসব থাকলে যে সামান্য ওই যে পাশ ফেল জীবনের সাফল্যের (Success Story) পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না তা প্রমাণ করেছেন কার্তিক মোদী নামে এই ভারতীয় টেকি। কার্তিকের এই যাত্রাপথ প্রমাণ করে, কলেজ জীবনের ব্যর্থতা কখনওই কর্মজীবনের শেষ কথা নয়। কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং মৌলিক বিষয়ের উপর দখল তৈরি করে তিনি নিজের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন। তার ফলস্বরূপ তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন।
কার্তিক মোদীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে কার্তিক জানিয়েছেন, কলেজ জীবনে তিনি একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিশেষ করে ডেটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাকলগ থাকায় আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগে। টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি পাওয়ার জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি নিজেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়া মনে করতেন। সহপাঠীদের প্রস্তুতি দেখে তাঁর মধ্যে হীনমন্যতাও তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আনন্দলোক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, সল্টলেকে রোগী সরানোর তৎপরতা—মোতায়েন দমকল
তবে এই পরিস্থিতিতে কখনও নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি তিনি। বরং সেই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের কৌশল বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন। কার্তিক জানান, তিনি দ্রুত এগোনোর পরিবর্তে প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে বোঝার উপর জোর দেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক কোডিং সমস্যা সমাধান করে ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা বাড়ান। একই সঙ্গে তিনি প্রতিটি ব্যর্থতাকে ফিডব্যাক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নিজের দুর্বল দিক—যেমন কোডিং গতি, ধারণা ও যোগাযোগ দক্ষতা, এসব বিষয়ে নিজের জ্ঞান উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করেন।
View this post on Instagram
২০২১ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কুরুক্ষেত্র থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করার পর তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। প্রথমে Uber-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর যোগ দেন মাইক্রোসফটে এবং বর্তমানে তিনি আমাজনে এসডিই-২ পদে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি গুগল ও Atlassian-এর মতো সংস্থা থেকেও অফার পেয়েছেন, যা তাঁর সাফল্যের পথকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

আরও পড়ুন: শিয়ালদহ-হাওড়া ডিভিশনে পরিষেবা সম্প্রসারণ, ১১টি রুটে অতিরিক্ত EMU ট্রেন চালাবে রেল
কার্তিকের এই সাফল্যের গল্প (Success Story) বর্তমানে বিশেষ করে সেইসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা কম সিজিপিএ বা ব্যাকলগের কারণে মানসিক চাপে ভুগছেন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট, ব্যর্থতা শেষ নয়, বরং নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাঁর এই সাফল্যের গল্প আজকের প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।












