বাংলা হান্ট ডেস্ক : ট্রেনে চেপে গন্তব্যে যাওয়ার পথে কোনও ঐতিহাসিক শহর বা পর্যটনকেন্দ্র চোখে পড়ল? ইচ্ছে হল সেখানে এক-দুদিন থেকে ঘুরে দেখার, তারপর আবার নিজের যাত্রা শুরু করার? ভারতীয় রেলের (Indian Railways) দীর্ঘ সফরে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে ‘ব্রেক জার্নি’ নামে একটি ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে যাত্রাপথে বিরতি নিয়ে পরে গন্তব্যের দিকে এগোনোর সুযোগ মিলতে পারে।
ভারতীয় রেলের(Indian Railways) এই বিশেষ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা আছে?
এই সুবিধা মানেই যে যেকোনও স্টেশনে নেমে ইচ্ছেমতো কয়েক দিন পর একই টিকিটে ট্রেনে ওঠা যাবে, তা নয়। ব্রেক জার্নির মূল উদ্দেশ্য হল, দীর্ঘ পথের সফরকে প্রয়োজনে একাধিক পর্বে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। সাধারণ নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের যাত্রায় নির্দিষ্ট শর্ত মেনে মাঝপথে বিরতি নেওয়া যেতে পারে। যাত্রা শুরুর স্টেশন থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর এই সুযোগ প্রযোজ্য হতে পারে।
মোট দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারের বেশি হলে কোনও একটি স্টেশনে সর্বোচ্চ দু’দিন থাকার অনুমতি থাকতে পারে। আর যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি হলে দু’বার বিরতি নেওয়ার সুযোগের কথাও বলা হয়। তবে মাঝপথে নেমে যাওয়াই এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। যে স্টেশনে যাত্রা থামানোর পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিভুক্তির নিয়ম জেনে নিতে হবে। স্টেশন মাস্টার বা সংশ্লিষ্ট টিকিট পরীক্ষকের মাধ্যমে টিকিটে অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।
স্টেশনের কোড ও সরকারি সিলের মতো তথ্য নথিভুক্ত করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে টিকিটের বৈধতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে জরিমানার আশঙ্কাও থাকতে পারে। যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা করার সময় টিকিটের গন্তব্য ও সংরক্ষণের শর্তও পরীক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে, সংরক্ষিত টিকিটে উল্লেখ থাকা স্টেশনের আগে নেমে ব্রেক জার্নি নেওয়া যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর নির্ভর করতে পারে। তাই টিকিট কাটার পরে নিজের মতো করে পরিকল্পনা না বদলে আগেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন : ‘প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে’, চোরবাগানে কার নির্দেশে ঘোষণা? আটক করে শুরু জিজ্ঞাসাবাদ
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সব ট্রেনে এই সুবিধা একইভাবে কার্যকর হয় না। রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস এবং জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্রেক জার্নির নিয়ম প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। এই ধরনের পরিষেবায় নির্দিষ্ট গন্তব্য ও যাত্রাপথ অনুযায়ী টিকিটের শর্ত নির্ধারিত থাকে। অনলাইনে কাটা ই-টিকিটের ক্ষেত্রেও মাঝপথে বিরতি নেওয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই টিকিট বুক করার সময়ই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।














