বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজো আর প্রায় একমাস বাকি। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে প্রস্তুতি তুঙ্গে। এর মধ্যেই পুজো কমিটিগুলির জন্য পুজো অনুদানের (Puja grants) ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অর্থ না নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেসব পুজো কমিটিগুলি অনুদান নেবেন, তারা কীভাবে আবেদন করবেন, সেই সম্পর্কিত ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুজোর অনুদানের (Puja grants) জন্য কিভাবে আবেদন ?
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সন্তোষপুর লেক পল্লি, টালা প্রত্যয় এবং চোরবাগান সার্বজনীন নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারও সরকারি এক লক্ষ টাকা গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। শুধু এই কয়েকটি পুজো নয়, ফুলবাগান সর্বজনীনের ক্ষেত্রেও সরকারি সহায়তা ছাড়াই উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের আর্থিক সহায়তা মূলত সেই সমস্ত পুজোর জন্য, যাদের নিজেদের পক্ষে পুরো আয়োজনের খরচ বহন করা কঠিন।
সেই বার্তা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে এক কর্মসূচিতে বলেছিলাম, যাদের (কমিটি) ছোট বাজেট, তাদের অনুদান দেব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। যারা সক্ষম (বড় বাজেটের পুজো কমিটি), তাদের বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য না-নিতে। যাঁরা এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।”
পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে অনুমতি নেওয়ার পদ্ধতিতে। কলকাতা পুলিশ ‘সহজ’ নামে একটি নতুন পোর্টাল চালু করতে চলেছে। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সেটি ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। পুজো সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুমতির জন্য আলাদা আলাদা দফতরের দরজায় ঘোরার বদলে অনলাইনেই আবেদন করার সুযোগ মিলবে। সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থায় কাজ করবে এই পোর্টাল। ফলে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতিগুলি সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন : সরকারি সাহায্য ছাড়াই পুজো, এবার কোন বড় ক্লাবগুলি নিল সিদ্ধান্ত?
প্রসঙ্গত, তবে সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম থাকছে। এক লক্ষ টাকার সহায়তা পেতে ইচ্ছুক পুজো কমিটিকে স্থানীয় থানায় আবেদন জানাতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সেগুলি যাচাই করবে পুলিশ। এরপর যোগ্য কমিটিগুলির তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫৫ হাজার দুর্গাপুজো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার পুজোর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মহিলারা। পুজোর আগে সরকারের ঘোষণায় খুশি পুজো কমিটিগুলি।













