বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য একের পর এক বাস, গাড়ি আর ক্যাব নির্বাচন কমিশনের কাজে চলে যাওয়ায় কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় এখন চরম পরিবহণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাস্তায় বাস কমে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নন, ভোটের কাজে যাওয়া সরকারি কর্মীরাও ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় একই ছবি দেখা যাচ্ছে।
কলকাতায় ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য বাসের টান
ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) ডিউটির জন্য কলকাতার বহু বাস এখন নির্বাচন কমিশনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, শহরে মোট সাড়ে তিন হাজারের মতো বাস রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২,৪০০ বাস এখন ভোটের কাজে ব্যস্ত। ফলে রাস্তায় খুব কম সংখ্যক বাস চলাচল করছে। তাই সকালে অফিস টাইমে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোনও বাস এলেও তাতে এত ভিড় থাকছে যে ওঠাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বেহালা থেকে ডানলপ, শহরের প্রায় সব জায়গাতেই যাত্রীদের একই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি অনেক চালক ভোট দিতে নিজের এলাকায় চলে গিয়েছেন। সেই কারণেও বাসের সংখ্যা আরও কমে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এই সমস্যা ৩০ মে পর্যন্ত চলতে পারে।
শুধু বাস নয়, অ্যাপ ক্যাব, বাইক ট্যাক্সি এবং অটোর সংখ্যাও এখন অনেক কম। ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিভিন্ন বুথে পৌঁছে দিতে বিপুল সংখ্যক গাড়ি রিকুইজ়িশন করেছে নির্বাচন কমিশন। স্কুলের ছোট বাস ও পুলকারও এই কাজে নেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি ভাড়া দিয়ে ক্যাব বুক করতে হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় বুকিং করার পরেও ক্যাব বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। বাস ইউনিয়নের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি রুটে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাস চালু রাখা হোক।
পরিবহণের অভাবে সমস্যায় পড়েছেন ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) কাজে যাওয়া সরকারি কর্মীরাও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার হাওড়ামারি স্কুলের ডিসিআরসি-তে যাওয়ার জন্য দুর্গাপুর থেকে মঙ্গলবার ভোরে বাস ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বাস না আসায় সমস্যায় পড়েন কয়েকশো কর্মী। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট, ইসিএল ও ডিভিসি-র কর্মীরা ভোর থেকেই বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সকাল সাতটা পর্যন্ত পর্যাপ্ত বাস পাওয়া যায়নি। যে কয়েকটি বাস এসেছিল, সেগুলিতেও প্রচণ্ড ভিড় ছিল।

আরও পড়ুনঃ কর্মরত শিক্ষকদেরও টেট বাধ্যতামূলক? আজ সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ শুনানি
ভোটকর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, ডিসিআরসি-র কাজ শেষ করে বুথে পৌঁছতে অনেক রাত হয়ে যাবে। ফলে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও মিলবে না। বাসচালক সূর্য জয়সওয়াল বলেন, ভোরে বাস ছাড়ার কথা থাকলেও দেরিতে রওনা হওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক দেরি হবে। ভোটকর্মী জীবন দাসও বলেন, বুথে পৌঁছতে রাত হয়ে যেতে পারে বলে তাঁরা চিন্তায় রয়েছেন (West Bengal Assembly Election 2026)।












