বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প নিয়ে বড় সুখবর দিল কলকাতা পুরসভা। এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার নতুন মহিলা এই জনপ্রিয় প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হলেন। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবেদন যাচাই শেষ করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নতুন সুবিধাভোগীরা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ভাতা পেতে শুরু করবেন।
ফেব্রুয়ারী মাস থেকেই নতুন সুবিধাভোগীরা পাবেন লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar)
পুর আধিকারিকদের বক্তব্য, গত কয়েক মাসে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। বিশেষ করে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন বরো অফিসের মাধ্যমে বহু মহিলা আবেদন করেন। সেই আবেদনগুলির মধ্যে দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ১.২৫ লক্ষ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই নতুন সুবিধাভোগীরা তাঁদের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক আর্থিক সহায়তা (Lakshmir Bhandar) পেতে শুরু করবেন।
যাচাই প্রক্রিয়া কেন সময়সাপেক্ষ?
পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, ভুয়ো আবেদন বা অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি রোধ করতে প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়। কখনও আধিকারিকরা আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করেন, আবার কখনও আবেদনকারীকে বরো অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। এই কারণেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে বলে জানিয়েছেন পুর কর্তারা।
রাজ্যজুড়ে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা
সদ্য পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটেও লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে নতুন করে আরও ২০.৬২ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২.৪২ কোটি মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন বাজেট ঘোষণায় মাসিক ভাতার অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা এখন পাবেন মাসে ১,৫০০ টাকা
সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা পাবেন মাসে ১,৭০০ টাকা
আগের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পান?
২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সব মহিলা সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত নন, তাঁরাই লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ২০২১ সালের আগস্ট মাসে এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই এটি রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কলকাতা পুর এলাকার ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ, যাচাই এবং অনুমোদনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে কলকাতা পুরসভা। চূড়ান্ত অনুমোদন দেন পুর কমিশনার। এরপর রাজ্য সরকার সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ IPAC মামলায় নাটকীয় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে আজ কী ঘটল?
অন্যদিকে জেলাগুলিতে লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) অনুমোদনের দায়িত্ব থাকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে। পুর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই তালিকা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ২৫ বছর পূর্ণ হলেই নতুন আবেদনকারীরা যুক্ত হন, আবার ৬০ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম বাদ পড়ে যায় এবং তাঁরা বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পের আওতায় চলে যান।












