বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) অর্থনীতি এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আয় বৃদ্ধি হলেও খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সম্পত্তি কর থেকেই যে রাজস্ব আসে, তা যথেষ্ট হচ্ছে না। মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছেন। কর আদায় বাড়ানো না গেলে শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও কর্মীদের বকেয়া গ্র্যাচুয়িটির সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে জানা গিয়েছে।
কত আয় বেড়েছে পুরসভার (Kolkata Municipal Corporatio)?
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) রাজস্ব বিভাগে সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে (১ এপ্রিল, ২০২৫–১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) পর্যন্ত সম্পত্তি কর থেকে আদায় হয়েছে ১,০৭৪ কোটি ২১ লক্ষ টাকার বেশি। গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১,০৪৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ২৯ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার বেশি আয় হয়েছে। তবে আয় বৃদ্ধি হলেও অঞ্চলভিত্তিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয় বলে জানানো হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগ মূলত আটটি ইউনিটে বিভক্ত। তার মধ্যে জোকা ইউনিটে গতবারের তুলনায় প্রায় ১৫% বেশি কর আদায় হয়েছে। অন্যদিকে, গার্ডেনরিচ ইউনিটে কর আদায় প্রায় ১৬.৫% কম। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা ইউনিটের আয়ও তেমন ভালো নয়। এক পুরকর্তা জানান, “২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব করলে ৯.৩২% আয় বৃদ্ধি দেখা গেছে।”
কিন্তু প্রশাসনিক সূত্রে স্বীকার করা হচ্ছে, এই আয়বৃদ্ধি বিপুল আর্থিক বোঝার তুলনায় যথেষ্ট নয়। গত বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সার্বিক আদায় হয়েছিল ১,২৫৮ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের খরচ হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি মাসে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন ভাতা ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বাবদ খরচ হয় ১২০–১২২ কোটি টাকা। বছরের শেষে মোট খরচ ১,৪০০ কোটি টাকার বেশি হবে। এছাড়া গত এক বছর ধরে অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুয়িটির বকেয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল এবং দৈনন্দিন খরচও বাড়িয়ে দিয়েছে বোঝা। ঠিকাদারদের বকেয়া প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে সিঙ্গুরে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন, মঞ্চ থেকে বড় প্রতিশ্রুতি মোদীর
এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগামী ২১ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) বৈঠক ডাকলেন। বৈঠকে সম্পত্তি কর মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বিভাগের সব ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে। এদিনের বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে মিউটেশনের আওতায় না আসা সম্পত্তি চিহ্নিত করে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর উপায়। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, কর আদায় বাড়ানো না গেলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সমস্যা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বকেয়া গ্র্যাচুয়িটি প্রদানেও জটিলতা আসতে পারে।












