বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভারতের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক বড় পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দেশ। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ও উত্তর ভারতের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের দাবি ছিল, আর সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবের পথে। প্রস্তাবিত নতুন এক্সপ্রেসওয়ে (Kolkata Varanasi Expressway) প্রকল্প কার্যকর হলে বারাণসী ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই শহরের মধ্যে দূরত্ব কমে আসবে।
কলকাতা বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে (Kolkata Varanasi Expressway)
৩৫০০০ কোটি টাকার এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে বারাণসী থেকে কলকাতার যাত্রা এবার মাত্র ৬ ঘণ্টায়। এর জেরে বারাণসী থেকে কলকাতার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপুল পরিবর্তন হবে। আগে কলকাতা থেকে বারাণসী যেতে সময় লাগত ১২-১৪ ঘন্টা। কিন্তু এই নতুন গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসের নির্মাণের ফলে এই রাস্তা অতিক্রম করা যাবে মাত্র ৬-৭ ঘন্টাতেই।
এই গ্রীনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে হবে ছটি লেনের। ২০২৮ সালের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার। প্রায় ৭১০ কিমি দীর্ঘ হবে এক্সপ্রেসওয়ে। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে শুরু করে বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া ও কলকাতা অবধি বিস্তৃত থাকবেই এই এক্সপ্রেসওয়ে।
মূলত চারটি রাজ্যের মধ্যে দিয়ে যাবে এই রাস্তা। এই এক্সপ্রেসওয়ের বড়ো অংশটি থাকছে আমাদের রাজ্যেই। উত্তরপ্রদেশ (২২ কিমি), বিহার (১৬৯ কিমি), ঝাড়খণ্ড (১৯৬ কিমি) এবং পশ্চিমবঙ্গ (৩২৩ কিমি) এমন ভাবেই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকবে এক্সপ্রেসওয়েটি। ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহন চলবে এই এক্সপ্রেসওয়েতে।
এক্সপ্রেসওয়েটি সম্পূর্ণ তৈরি হলে গুরুত্বপূর্ণ হাই স্পিড রোড হিসেবে দেখা যাবে। এই রাস্তা নির্মাণে হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ উন্নত হওয়ার ফলে , উত্তর ও পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডর হিসেবেও কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির যোগাযোগ সহজ হবে। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী, বিহারের গয়া এবং ঝাড়খণ্ডের রাঁচির মতো বহু ধর্মীয় স্থানকে একই সূত্রে যুক্ত করবে এই এক্সপ্রেসওয়ে ।

আরও পড়ুন : দিঘা যাত্রীদের জন্য সুখবর! সাঁতরাগাছি থেকে প্রতিদিন মিলবে ট্রেন, দেখে নিন টাইম টেবিল
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্প এবং পর্যটনের সবক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ব ভারতের উন্নয়নে এই এক্সপ্রেসওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।












