‘ভাগ্যিস অগ্নিমিত্রা পালের খপ্পরে পড়েননি, বিদ্যাসাগরের লেখাপড়া হত না’ কটাক্ষ কুণাল ঘোষের

Updated on:

Updated on:

Kunal Ghosh questions BJP for inflation in Rejinagar Election Campaign
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচার চলছে রেজিনগরে (Rejinagar)। রবিবার পর্যন্ত শেষ প্রচার চলবে। তার আগে শনিবার রেজিনগরের সভা থেকে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ জানিয়ে একেবারে চাচা ছোলা ভাষায় মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা কুণাল ঘোষের

শুরুতেই মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে ‘বড়লোকের সরকার’ বলে কটাক্ষ করলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্রের যে সরকার চলছে বিজেপি, রাজ্যের যে সরকার চলছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। পেট্রোল ডিজেল, কৃষকের সারের দাম, রান্নার গ্যাস কেরোসিন তেল সবকিছুর দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ,কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। আর তাদের নজর ঘোরাতেই বিজেপি ধর্মের নামে ভেদাভেদ আর পুলিশরা জঙ্গল রাজ, হুমকি রাজ করছে । আর সেইটা চাপিয়ে দিচ্ছে জনগণের ওপরে। আমরা তার বিরোধিতা করছি।’

সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তৃণমূল নেতা বললেন, ‘এবারের নির্বাচন বিজেপির মূল শত্রু কে? নিশ্চয়ই অনেক দল ভোটে লড়ছেন। কিন্তু, বিজেপির মূল শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মূল শত্রু বলেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে ভাঙবার এত চেষ্টা। কখনও এমপি, কখনও কিছু গাদ্দার এমএলএ, ‘বালিশ চাটা মাল’ সেইগুলোকে দিয়ে গাদ্দারি করাচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ ‘সামনের লোকসভায় পালানোর সুযোগ পাবেন না!’ শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি সন্তু পানের

তারপরেই আসন্ন নির্বাচনের আগে রেজীনগরের বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়ে কুণাল ঘোষ এদিন বললেন, ‘আপনাদের কাছে বলছি। বুকে হাত দিয়ে বলুন, আমরা কোন দিকে? ইমানদারির দিকে না বেইমানির দিকে? যদি ইমানদারির দিকে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীকে ভোট দিন। আমরা হেরে যেতে পারি। নির্বাচন কমিশন দিয়ে হারিয়ে দিয়েছে। ভোটার লিস্ট থেকে কত ভোটার বাদ। আপনাদের মুর্শিদাবাদ জেলার কত মানুষ বাদ। হেরে যেতে পারি, বিশ্বাস করুন হারের পর অনেকে পালিয়ে গেছে। আমরা এই কজন যারা আপনারা আমরা রয়েছি, এই সৈনিকরা কিন্তু মমতা ব্যানার্জিকে ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। আমরা এই লড়াইটা লড়ছি।’ তারপর আমি বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘এই সরকার গরিবের সরকার নয়, এই সরকার মানুষের সরকার নয়।’

এখানেই শেষ নয়। ফুটপাত থেকে হকার উচিত প্রসঙ্গেও বিজেপিকে কার্যত তুলোধোনা করলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ! নিশ্চয়ই ফুটপাত পরিষ্কার করা উচিত। কেউ ইচ্ছা করে তো রাস্তা আটকে বসে না। কোথায় যাবে পরিবারগুলো? কি খাবে? ধর্মকে টার্গেট করে করে এলাকা বাছা হচ্ছে। বিজেপির সাথে আমাদের আদর্শগত লড়াই। যারা হঠাৎ বিজেপি হয়ে গেল তাদের কিন্তু কোন আদর্শ নেই। তারা, শুধু গুন্ডামি,গা-জোয়ারি, এলাকা দখল, তোলাবাজি এইসবগুলো করাচ্ছে।’

যদিও একই সাথে তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপির সবাই এটা পছন্দ করছেন না। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য অবাধ ও সুষ্ঠ বোধ হতে দিন। রেজীনগর ঘুরে চারপাশের যা মহল তাতে মনে হচ্ছে ধর্মেন্দ্রর ‘হুকুমত’ সিনেমার শান্তিনগরে এসে পড়েছি। রেজিনগরে আসিনি। নাম শান্তিনগর, মনের মধ্যে সবার অশান্তি। আতঙ্ক! মুখ ফুটে, মানুষ মনের কথা বলতে পারছেন না। ধর্মেন্দ্রর হুকুমত সিনেমার শান্তিনগর,আজকের রেজিনগর। তার থেকে মুক্ত করতে পারেন আপনারা। যাঁরা ভোটটা দেবেন।’

সবশেষে, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের, ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান প্রসঙ্গে চরম কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ এদিন বললেন, ‘ফুটপাতে যেখানে সেখানে যেভাবে বলছেন, ‘এই উঠে যান, এই উঠে যান।’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়তেন। ভাগ্যিস অগ্নিমিত্রা পালের খপ্পরে পড়েননি। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের লেখাপড়া হতো না, ফুটপাত থেকে তুলে দিত।’